প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা:- রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সম্পত্তি বিক্রি ও টাকা ফেরানোর কাজে প্রয়োজনীয় গতি আসেনি বলে পর্যবেক্ষণ ডিভিশন বেঞ্চের। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতি মাসে আদালতে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ রোজভ্যালি মামলার রায় ঘোষণা করে। আদালত জানায়, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়াই কমিটির মূল দায়িত্ব। এর বাইরে তাদের কোনও অতিরিক্ত আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা সহযোগী সংস্থা ‘চকলেট হোটেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি করেছিল। কিন্তু ওই ধরনের চুক্তি করার আইনি ক্ষমতা সংস্থাটির ছিল না। তাই অনুমোদনহীন ওই সমস্ত চুক্তিকে শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ বছরে কমিটির হাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে মাত্র ৫৫.৪৫ কোটি টাকা। এই সময়ে মাত্র ১০টি সম্পত্তির নিলাম হয়েছে এবং ৮০টি সম্পত্তির মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রচারও হয়েছে মাত্র দু’বার। ফলে বহু আমানতকারী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যেতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত টাকা ফেরানোর জন্য একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সম্পত্তিগুলি বিক্রি করে সেই অর্থও আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতি মাসে আদালতে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে কমিটিকে। নির্ধারিত সময়সীমার পরেও যদি কাজ অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে বাকি দায়িত্ব বিচারপতি এস পি তালুকদারের নেতৃত্বাধীন এক সদস্যের কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। এর পাশাপাশি সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোজভ্যালির যে সমস্ত সম্পত্তি এখনও বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, সেগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal