Breaking News

রাজ্য সরকারের বড় দায়িত্বে মিঠুন চক্রবর্তী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা পদে নিয়োগ!পূর্ণমন্ত্রী ও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে বড় দায়িত্ব দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই পদে মিঠুনকে পূর্ণমন্ত্রী বা ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য মর্যাদাও দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ‘জনস্বার্থে’ এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যপালের নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরেই নতুন পদমর্যাদা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই মর্যাদা বহাল থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর থেকেই মিঠুনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই সাক্ষাতের সময়ই বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপির উত্থানের পিছনে মিঠুনের ভূমিকার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ছিল, মানুষের ভোট ও আশীর্বাদেই বিজেপি নির্বাচনে জয় পেয়েছে এবং দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথে যাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তী অন্যতম বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
এর পর থেকেই মিঠুনকে রাজ্য সরকারের কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বুধবারের সরকারি বিজ্ঞপ্তির পর সেই জল্পনারই অবসান হল। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুনের নতুন দায়িত্বকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্র নিয়েও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার বার্তা আগেই দিয়েছিলেন মিঠুন। কয়েক মাস আগে তিনি ‘বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি’ তৈরির উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত অ্যাকাডেমির জন্য দমদম এলাকায় একটি মাঠও পরিদর্শন করা হয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অ্যাকাডেমির জন্য দীর্ঘদিন মাঠ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও সরব হয়েছিলেন মিঠুন। তাঁর অভিযোগ ছিল, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পটি এগোয়নি। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে খেলার জন্য উপযুক্ত মাঠ পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার মাঠ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় এবার সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুটবল অ্যাকাডেমিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এবার রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন মিঠুন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কী হয় এবং নতুন দায়িত্বে কী ধরনের উদ্যোগ নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *