Breaking News

কলকাতার পুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, কংগ্রেসে যোগ তৃণমূলের দুই প্রাক্তন কাউন্সিলরের, পুরভোটের আগে তৎপর হাত শিবির!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফলাফল কংগ্রেস শিবিরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সেই আবহেই কলকাতার পুররাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর ফারজানা চৌধুরী ও সঞ্চিতা মণ্ডল। ফারজানা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ এবং ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। অন্যদিকে, সঞ্চিতা মণ্ডল ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। তাঁদের এই দলবদলকে আসন্ন কলকাতা পুরভোটের আগে কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ ফারজানা চৌধুরী একসময় বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিপিআই নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কলকাতার পুররাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। অন্যদিকে, সঞ্চিতা মণ্ডলও কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করেছেন। শিয়ালদহ থেকে বালিগঞ্জ পর্যন্ত মধ্য কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় এই দুই নেত্রীর রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। ফলে তাঁদের কংগ্রেসে যোগদানকে ঘিরে পুরভোটের আগে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের অবস্থান বদল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার পুররাজনীতিতে নিজেদের জমি শক্ত করতে চাইছে কংগ্রেস। দুই প্রাক্তন কাউন্সিলরের যোগদান সেই প্রচেষ্টায় কতটা প্রভাব ফেলে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।এদিন যোগদান কর্মসূচিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, আরএসএস ও বিজেপির নীতির বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর লড়াইয়ে আস্থা রেখেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নেতা-কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য রক্ষায় কংগ্রেসের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে শুভঙ্কর সরকার জানান, কলকাতার বহু মানুষ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে তাঁদের অভিযোগ। এই সমস্ত মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিতে পুজোর পর বৃহত্তর আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে কংগ্রেসের।সব মিলিয়ে, কলকাতা পুরভোটের আগে দুই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই যোগদান হাত শিবিরকে কতটা সাংগঠনিক সুবিধা দেয় এবং পুরভোটের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *