Breaking News

এসআরএফটিআই-কাণ্ডে নবান্নের বড় পদক্ষেপ! ৬ সদস্যের সিট, নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করল নবান্ন। গত রবিবার শিক্ষাঙ্গনে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের চেহারা নিল, তা খতিয়ে দেখবে ছয় সদস্যের এই তদন্তকারী দল। সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান কুণাল অগ্রবাল।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশ অথবা কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আধিকারিক ও কর্মী নেওয়ার জন্য সিট আবেদন করতে পারবে। আগামী বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার সকালে এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে একটি সভার আয়োজন করেছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ বা এবিজিপি (পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত)। সংগঠনের দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই সকাল ১০টা থেকে সভা চলছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে আপত্তি জানান পড়ুয়াদের একাংশ।প্রেক্ষাগৃহের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি পড়ুয়ারা রেজিস্ট্রারের কাছে জানতে চান, কেন একটি বেসরকারি সংগঠনকে শিক্ষাঙ্গনের ভিতরে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি সংঘর্ষের আকার নেয়।
পড়ুয়া ও শিক্ষকদের উপর এবিজিপি-র সদস্যেরা চড়াও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধেও পাল্টা মারধরের অভিযোগ এনেছেন সংগঠনের সদস্যেরা। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এসআরএফটিআই-কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রবিবারের ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ ও ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে যে ছবি সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ধরনের সংস্কৃতি বদলানোর কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, রবিবারের ঘটনা নিয়ে পড়ুয়া এবং শিক্ষকমহলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে ছয় সদস্যের সিট গঠন করল নবান্ন। আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে সিটের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসতে পারে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *