Breaking News

‘প্রার্থিপদ তুলে নিন, যা চাইবেন পেয়ে যাবেন’, পুলিশই দিয়েছিল প্রস্তাব! জামিনে মুক্তি পেয়ে বিস্ফোরক দাবি নন্দীগ্রামের মিলনের

নিজস্ব সংবাদদাতা :-নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ করে দিয়ে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার জেল থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিনি। মিলনের দাবি, প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করানোর জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। শুধু চাপ নয়, দেওয়া হয়েছিল ‘লোভনীয় প্রস্তাব’ও। তাঁর অভিযোগ, গোটা ঘটনায় পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা ছিল।
নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই পুরনো একটি খুনের মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হাই কোর্টে অন্তর্বর্তী জামিন মেলার পর বুধবার মুক্তি পান তিনি।
জেল থেকে বেরিয়ে মিলনের অভিযোগ, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীপুর থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁর দাবি, গাড়িতে চোখ বেঁধে তাঁকে মন্দারমণির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘আমি প্রচারে ব্যস্ত ছিলাম। সারা দিন প্রচারের পর চণ্ডীপুরে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ সিভিল পোশাকে পুলিশ এসে আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেল। গাড়িতে গামছা দিয়ে আমার চোখ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।’’ মিলনের আরও দাবি, হোটেলের ঘরে তাঁকে বলা হয়েছিল, তিনি কী চান তা জানালেই পরের দিন তার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। বিনিময়ে শুধু প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি বলেও দাবি করেছেন। মিলনের বক্তব্য, ওই ঘরে আইপিএস এবং ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিকরাও ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি বলেছি, আমি আদর্শের জন্য রাজনীতি করি। এই কাজ করতে পারব না।’’
এর পর গভীর রাতে ফের তাঁকে চণ্ডীপুরে ফিরিয়ে আনা হয় বলে দাবি মিলনের। রাত আড়াইটে-তিনটে নাগাদ তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর গ্রেফতার করা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পুরো ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে মেরে ফেলার আশঙ্কাও হয়েছিল। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন বলে জানা গিয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয় কুমার মিশ্রের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। এদিকে, নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিলন। তিনি বলেন, হাসিরানি রথকে তিনি ‘মা’ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। তবে তাঁর দাবি, স্থানীয় কাউকে প্রার্থী না করে বিজেপি কেন তাঁকে প্রার্থী করল, তা নিয়ে দলের অন্দরেও ক্ষোভ রয়েছে। নন্দীগ্রামের উন্নয়ন নিয়েও সরব হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী।মিলনের অন্তর্বর্তী জামিনের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। যদিও কংগ্রেসের দাবি, সেই আবেদনেও বিশেষ ফল হবে না। অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে ‘মিথ্যা’ ও ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছেন মিলন।ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যদি বলেন কী ভাবে ভোট করাতে হয় আমরা জানি, সেটা কিন্তু হুমকি। গণতন্ত্রকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।’’তিন সপ্তাহের জন্য মিলনকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৯টায় সংশ্লিষ্ট থানায় ফোন করে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *