Breaking News

‘এপাং ওপাং নয়, বিদ্যাসাগরের বই কিনুন’, বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে থেকে বার্তা শুভেন্দুর, বীরসিংহে একগুচ্ছ উন্নয়ন ঘোষণা!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- শিক্ষা, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে সরকারি পাঠাগার—সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বীরসিংহে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেতে গিয়ে একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারি লাইব্রেরিগুলিতে বিদ্যাসাগরের লেখা বই রাখার উপরেও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। বীরসিংহে এসে বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আসতে পেরে গর্বিত বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, সরকারের তরফে ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি পালন করেন। অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়া তিন ছাত্রী—নূপুর চঙরে, শ্রেয়া অধিকারী এবং তনুশ্রী সামন্তকে সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উদ্যোগের প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নিজেরাই প্রতিহত করে ওই ছাত্রীরা বিদ্যাসাগরের আদর্শের পথে উদাহরণ তৈরি করেছে।
বীরসিংহকে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তা চওড়া করা, রাতের থাকার ব্যবস্থা, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি এবং আলোকসজ্জার পাশাপাশি বিদ্যাসাগর শিশু উদ্যান ও কমিউনিটি হল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন দফতরকে আবাসিক হস্টেল তৈরির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গবেষণার কাজে যাঁরা বীরসিংহে আসবেন, তাঁদের থাকার জন্য বিশেষ কটেজ তৈরির উদ্দেশ্যে জমির ব্যবস্থা করতেও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সরকারি পাঠাগারের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ছড়ার লাইন উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘অসংখ্য বই রয়েছে। ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ বই কিনবেন না। বিদ্যাসাগরের বই কিনুন, স্কুলের লাইব্রেরিগুলো ভরিয়ে দিন।’’ তাঁর দাবি, এত দিন শুধু ভাষণ হয়েছে, বাস্তবে কাজ হয়নি।এদিন ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মোহনপুর থেকে হেলিকপ্টারে বীরসিংহে আসার পথে আকাশপথে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বলে জানান তিনি। ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাটের প্রশংসা করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু।ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, পুজোর পর থেকেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং জুন মাসের মধ্যে কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *