নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :- অ্যামাজন, অ্যাপলের মতো সংস্থার টেক সাপোর্ট দেওয়ার নাম করে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে নিউটাউনের ইকো স্পেসে অভিযান চালাল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। অভিযানে একটি ভুয়ো কলসেন্টারের হদিস মেলে। সেখান থেকে ১৩ জন মহিলা-সহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রের মাধ্যমে আমেরিকার একাধিক নাগরিকের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গোটা চক্রের মূলচক্রী কে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউটাউনের ইকো স্পেসের প্রায় ২ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে চলছিল ওই কলসেন্টার। বুধবার রাতে সেখানে আচমকা হানা দেন সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকরা। অভিযানে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ এবং ১৩ জন মহিলা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই ভিন্রাজ্যের বাসিন্দা।
অভিযানের সময় কলসেন্টার থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৫৩টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, চারটি ল্যাপটপ এবং ২৪টি মোবাইল ফোন। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য ব্যবহৃত একাধিক ‘স্ক্রিপ্ট’। সেই স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করেই কল করে নিজেদের বিভিন্ন নামী প্রযুক্তি সংস্থার টেক সাপোর্ট কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হত বলে অভিযোগ।বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার রাঠোর অমিতকুমার ভারত জানিয়েছেন, টেক সাপোর্ট দেওয়ার কথা বলে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হত। গোটা প্রক্রিয়াটি একাধিক স্তরে ভাগ করা ছিল। একটি দল সরাসরি আমেরিকার নাগরিকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করত, অন্য একটি দল টাকা লেনদেনের বিষয়টি দেখাশোনা করত। নিউটাউনের ওই কেন্দ্র থেকেই প্রতারণার কাজ পরিচালিত হত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।পুলিশের দাবি, শুধু কলসেন্টারের কর্মীদের গ্রেপ্তার করেই তদন্ত থামানো হবে না। এই চক্রের পিছনে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। কী ভাবে এই বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন করা হত এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal