Breaking News

‘আমি এখনও মমতার সঙ্গেই রয়েছি, ঋত-তৃণমূল বলে কিছু নেই’, জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য রথীন ঘোষের!

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :-দলের বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের মূল স্রোতে ফেরার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এরই মধ্যে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। তাঁর দাবি, তিনি এখনও তৃণমূলেই রয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন। রথীনের এই মন্তব্য ঘিরেই অবশ্য নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।রথীন কি মমতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফের মূল স্রোতে ফিরতে চাইছেন? নাকি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতেই এমন বার্তা দিচ্ছেন? প্রশ্ন উঠছে, মমতার সঙ্গে থাকার দাবি করলে এতদিন তাঁকে কেন দলনেত্রীর পাশে দেখা যায়নি? সেই প্রশ্নই তুলেছেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রথীন ঘোষ বলেন, স্থানীয় এলাকায় খোঁজ নিলেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তিনি এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন এবং নিয়মিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘‘কে বলেছে আমরা মমতার সঙ্গে নেই? আমরা মমতার সঙ্গেই আছি।’’
তবে মমতার সঙ্গে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ার প্রশ্ন উঠতেই রথীনের যুক্তি, ‘‘নতুন কোনও কর্মসূচি না থাকলে তা কী ভাবে প্রমাণ করব! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যতে কোনও আন্দোলন করলে আমি সেখানে তৃণমূলের কর্মী হিসেবেই হাজির থাকব।’’
‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’ বা ঋতব্রত শিবির নিয়েও মুখ খোলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক। তাঁর দাবি, ‘‘ঋতব্রত তৃণমূল বলে আলাদা কিছু নেই।’’ তাঁর বক্তব্য, মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। রথীন বলেন, ‘‘বিধায়করা ঋতব্রতকে এলওপি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পার্টি বড় নাকি বিধায়করা বড়, সেটা আমার জানা নেই। তবে স্পিকার মান্যতা না দিলে আমাদের কী-ই বা করার আছে!’’রথীনের বক্তব্যে একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের দাবি রয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং পরিষদীয় ক্ষমতা নিয়ে তাঁর অসন্তোষের ইঙ্গিতও রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণও বদলে গিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ককে নিয়ে বিদ্রোহী শিবির তৈরি হয়েছে বলে দাবি। ওই বিধায়কদের সমর্থনেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন ঋতব্রত। সেই তালিকায় রথীন ঘোষের নামও ছিল।তাহলে কি এবার অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন রথীন? নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও রাজনৈতিক কৌশল? বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ, আসল তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, দলের প্রতীক এবং তহবিলের অধিকারই বা কারা পাবেন—সেই বিষয় এখনও নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য রথীনের মন্তব্য নিয়ে সতর্ক। তাঁর বক্তব্য, ‘‘গোটা বিষয়টা এখন নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। রথীন দা তো আমাকে কিছু বলেননি। আমি আগে দেখি, শুনি, তারপর বলব।’’অন্যদিকে রথীনের বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, রথীনের এই অবস্থান ‘হাঁসজারু’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কুণালের প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরব হয়েছেন, তখন রথীন তাঁর সঙ্গে ছিলেন না কেন? তাঁর আরও দাবি, ‘‘অস্তিত্বের জন্য, এলাকার কর্মীদের মন ভোলাতে বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। আসলে বিশ্বাসঘাতক শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।’’
তবে কুণালের বক্তব্যের পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও দেননি রথীন। ফলে তাঁর ‘মমতার সঙ্গেই আছি’ মন্তব্য আদতে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ইঙ্গিত, নাকি বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশল—তা নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজ্য রাজনীতিতে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *