Breaking News

অসুস্থতার কাছে হার মানল অদম্য জেদ, চিরঘুমে ‘বিরতির পরে’-র পাপিয়া সিংহ দেবনাথ!

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :- বাংলা সংবাদমাধ্যমের পরিচিত মুখ পাপিয়া সিংহ দেবনাথ আর নেই। দীর্ঘদিনের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবিপি আনন্দের জনপ্রিয় সাংবাদিক-সঞ্চালিকা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপরই মৃত্যু হয় তাঁর।দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে টেলিভিশনের পর্দায় সঞ্চালিকা ও সংবাদকর্মী হিসেবে দর্শকদের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ, সাবলীল উপস্থাপনা এবং বাংলা শব্দের নিখুঁত প্রয়োগ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি আবৃত্তির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।দীর্ঘদিন ধরেই কোলন ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল পাপিয়ার। চিকিৎসার অংশ হিসেবে ১২টি কেমোথেরাপিও নিয়েছিলেন তিনি। কেমোথেরাপির ধকল শরীরে প্রভাব ফেললেও কাজের প্রতি তাঁর টান কমেনি। বরং অসুস্থতার মধ্যেও হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করতেন তিনি।
১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ জন্ম পাপিয়ার। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে থেমে গেল তাঁর জীবনযুদ্ধ। আচমকা এই মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। রাজনীতি থেকে ব্রেকিং নিউজ, বিনোদন থেকে খেলাধুলা—বিভিন্ন ধরনের খবর সাবলীলভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন পাপিয়া। খবরের বিশ্লেষণেও তাঁর নিজস্ব দক্ষতা ছিল। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠানেও তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত ছিল।কাজের বাইরে প্রকৃতি ও বাগান পরিচর্যার প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা ছিল। ফুল ফুটলে তার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেন। সহকর্মীদের সঙ্গে নিজের সেই আনন্দও ভাগ করে নিতেন।পাপিয়ার পরিচিতরা জানান, খাওয়াদাওয়ার প্রতিও তাঁর যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। কিন্তু ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে শরীরে নানা অস্বস্তি বাড়তে থাকে। তবুও জীবনের প্রতি তাঁর ইতিবাচক মনোভাব শেষ পর্যন্ত অটুট ছিল।
রেখে গেলেন স্বামী ও ছেলেকে। রেখে গেলেন অসংখ্য দর্শকের মনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় এবং সেই পরিচিত কণ্ঠস্বরের স্মৃতি। বৃহস্পতিবার সকালে চিরতরে থেমে গেল পাপিয়ার কণ্ঠ। ‘বিরতির পরে’ আর ফেরা হল না তাঁর।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *