দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্য সরকারি কর্মীদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল নবান্ন। সচিবালয়ের কর্মীদের নিজেদের ইচ্ছেমতো অন্য দফতর, ডিরেক্টরেট কিংবা আঞ্চলিক কার্যালয়ে নিয়োগ করতে পারবে না কোনও প্রশাসনিক বিভাগ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতরের ‘কমন ক্যাডার উইং’-এর লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার।নবান্ন সূত্রে খবর, সম্প্রতি প্রশাসনের নজরে এসেছে, একাধিক দফতর নির্দিষ্ট নিয়মকানুন না মেনেই সচিবালয়ের ‘কমন ক্যাডার’-এর কর্মীদের বিভিন্ন ডিরেক্টরেট ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে কাজে নিযুক্ত করছে। অথচ, এই ধরনের পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার পরিচালন কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নেওয়া হচ্ছে না। এর জেরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মী ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতরের তরফে সমস্ত প্রশাসনিক বিভাগের উদ্দেশে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন বিশেষ সচিবের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সচিবালয়ের কর্মীদের অন্যত্র স্থানান্তর বা নিয়োগের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এমন পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে কোনও কর্মীকে ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক স্তরের কোনও দফতরে পাঠানোর প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনেই এগোতে হবে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পাঠাতে হবে পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দফতরের কমন ক্যাডার উইংয়ের কাছে। ওই শাখার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরেই কর্মী নিয়োগ বা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে।নির্দেশিকার প্রতিলিপি রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, প্রধান সচিব এবং সমস্ত দফতরের সচিবদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশ যাতে যথাযথ ভাবে কার্যকর হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, সচিবালয়ের কর্মীদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা এবং ক্যাডার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই নবান্নের এই উদ্যোগ। এর ফলে বিভিন্ন দফতরের একতরফা সিদ্ধান্তে কর্মীদের অন্যত্র নিয়োগ করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal