Breaking News

রাজনীতি ছাড়ার পর এবার দেশ ছাড়ার ঘোষণা! রেজিনগরে ভোটের ফলের আবহে হুমায়ুনের বিস্ফোরক বার্তা, ‘সংঘর্ষ করতে করতে ক্লান্ত, এবার বিশ্রাম চাই’

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- ভোটের পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন তিনি। কখনও রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত, কখনও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা, আবার কখনও বিধানসভায় না যাওয়ার হুঁশিয়ারি। এবার সরাসরি ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর উপনির্বাচনের গণনায় নিজের দলের পিছিয়ে থাকার প্রবণতা দেখেই কি এমন সিদ্ধান্ত? ফলপ্রকাশের দিন তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি পেয়েছে ১২ হাজার ৭০৭ ভোট। অন্যদিকে, শাসকদলের ঝুলিতে তখন ৩৫ হাজার ৮৯৬ ভোট। এই ব্যবধানের মধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খোলেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, “ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাব। এখন আমার কাজ বাবরি মসজিদটা করা আর অধীর চৌধুরীকে ভোটে হারানো।” অর্থাৎ, রাজনীতির ময়দান থেকে সরে যাওয়ার কথা বললেও দুটি রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি।উপনির্বাচনের দিন থেকেই ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন হুমায়ুন। ৬ অক্টোবর সকাল থেকেই তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগ তোলার পর তাঁকে আটকও করা হয় বলে দাবি। গণনার দিনও প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একই অভিযোগ করেছেন তিনি। ফলপ্রকাশের দিন গণনাকেন্দ্রের আশপাশে তাঁকে তেমন দেখা যায়নি। কেন গণনাকেন্দ্রে যাচ্ছেন না, সেই প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন বলেন, “পুলিশ ভোট লুঠ করে বেড়াচ্ছে, কোন ভরসায় গণনাকেন্দ্রে যাব? আমাকে ভয় পেয়ে খাঁচায় পুরে রেখেছিল।”
একসময় কংগ্রেস, পরে তৃণমূল, তার পর বিজেপি ঘুরে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের দল গড়েছিলেন হুমায়ুন। সেই দলের হয়ে বিধায়কও হন তিনি। কিন্তু উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। কখনও বিধানসভায় না যাওয়ার কথা, কখনও বিধায়ক পদ ছাড়ার ইঙ্গিত, আবার কখনও রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা—এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা।রেজিনগরে তাঁর দলের প্রার্থী গোলাম নবি আজ়াদ, যিনি হুমায়ুনের পুত্র। ভোটের পর ছেলেকেই ‘গদ্দার’ বলে আক্রমণ করেছিলেন দলের প্রধান। আর ফলপ্রকাশের দিন নিজের মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন জানান, তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই। জীবনের বাকি দিনগুলি গোল্ডেন ভিসা নিয়ে দুবাইয়ে কাটাতে চান তিনি। হুমায়ুনের কথায়, “আমি ছোটবেলা থেকে অন্যায় বরদাস্ত করিনি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বড় হয়েছি। এখন আমার বয়স ৬৪। আগামী ২৯ তারিখ ৬৫ পূর্ণ হবে। জীবনের শেষ দিনগুলো দুবাইয়ে শান্তিতে কাটাতে চাই। সেখানে গিয়ে খাব-দাব, ঘুরব, সমুদ্রের হাওয়া খাব আর সেখানেই কবরস্থ হব, এটাই ঠিক করেছি।”রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। হুমায়ুনের বক্তব্য, “এত অবিচারকারী আর জুলুমকারীদের সঙ্গে আমার আর পোষাবে না। এদের সঙ্গে কোনও সংঘর্ষে যাওয়া এখন আর আমার পক্ষে সম্ভব নয়। একসময় অনেক মনোবল ছিল। শক্তিশালী মানসিকতা নিয়ে ন্যায়ের পক্ষে লড়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।”রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তুলেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান। তাঁর দাবি, বিধানসভা আসনটি দখলের লক্ষ্যে গত দু’মাস ধরে শাসকদল ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। এই সময়ে তাঁর দলের নেতা-কর্মী ও অনুগামী মিলিয়ে অন্তত ৬৪ জনকে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি মারধর, বাড়ি ভাঙচুর এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও তুলেছেন। এমনকি, ২০২২ সালের পুরনো মামলা সামনে এনে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
তবে দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার ঘোষণা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একদিকে বাবরি মসজিদ নির্মাণ ও অধীর চৌধুরীকে ভোটে হারানোর লক্ষ্য, অন্যদিকে রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে শান্তিতে জীবন কাটানোর ইচ্ছা—হুমায়ুন কবীরের এই দুই অবস্থান ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, সত্যিই কি রাজনীতির ময়দান ছাড়তে চলেছেন তিনি, নাকি এই ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও পরিকল্পনা?

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *