নিজস্ব সংবাদদাতা :-মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বড়সড় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই একের পর এক নেতা-নেত্রীকে আটক করে পুলিশ। আটক করা হয় চার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। শনিবার দুপুরে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয় তৃণমূলের সাংসদ সাকেত গোখেল, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে। পরে তাঁদের দ্বারকা নর্থ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।থানায় পৌঁছেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কোনও আইন ভঙ্গ না করলেও তাঁদের কার্যত ‘অপহরণ’ করে প্রিজন ভ্যানে চাপিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে ঘোরানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে থানার ভিতরেই ধরনায় বসার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি, সোমবার পর্যন্ত দিল্লিতে থাকার কথাও জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।দিল্লিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মমতা জানান, যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরপর দলের ছ’জন সাংসদ একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাস্তার উপর বসে পড়েন। অভিযোগ, তখন পুলিশ তাঁদের ব্যানার সরিয়ে নিতে বলে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সেখানে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না। গোটা পরিস্থিতিকে ‘সুপার এমার্জেন্সি’-র সঙ্গে তুলনা করেন মমতা।
তাঁর বক্তব্য, “আমরা ওদের সব নির্দেশ মেনে নিয়েছিলাম। কোনও আইন ভাঙিনি। তা সত্ত্বেও আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দু’ঘণ্টা প্রিজন ভ্যানের ভিতরে আটকে রাখা হয়েছিল।” মমতার দাবি, অপরাধীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি ওই ভ্যানে তাঁদের এমনভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, যেন তাঁরা কোনও অপরাধ করেছেন। অথচ কোনও আইন না ভেঙেও তাঁদের এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার দিল্লিতে একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে বিক্ষোভের আগেই বহু মানুষকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে কেউ প্রতিবাদে যোগ দিতে এসেছিলেন, কেউ সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়েছিলেন। এমনকী, এক ব্যক্তি আত্মীয়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেও আটক হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের প্রধানের অপসারণের দাবিতে প্রতিবাদ ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal