Breaking News

দশমীতে বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে কলকাতা, বাবুঘাট পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী!কলকাতার ২৮টি গঙ্গার ঘাটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, ড্রোনেও নজরদারি

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- দশমীর সকাল থেকেই বাজতে শুরু করেছে বিসর্জনের বাদ্যি। বাপেরবাড়ি থেকে কৈলাসে ফেরার পালা উমার। দুপুরের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন ঘাটে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জন। বিসর্জন ঘিরে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বুধবার সকালে বাবুঘাটে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশের আধিকারিক ও পুরসভার কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিসর্জনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি। সেখানেই প্রতিমার কাঠামো স্পর্শ করা নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সনাতনী ধর্মে যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁরা ছাড়া কেউ প্রতিমায় হাত দেবেন না। আমি সিপি-কে বলেছি, যাঁরা এখানে আসবেন তাঁদের নাম লিখে রাখতে। ওটাও আইডেন্টিফাই করে দিতে হবে।”দশমীর সকাল থেকেই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে চলছে সিঁদুরখেলা ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান। দুপুরের পর থেকে গঙ্গার ঘাটগুলিতে শুরু হবে প্রতিমা নিরঞ্জন। তার আগে ঘাটে ঘাটে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে এদিন সকালে বাবুঘাট, বাজেকদমতলা ঘাট এবং জাজেস ঘাট পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দা, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।বিসর্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিরাপত্তা, পরম্পরা ও ঐতিহ্য মেনেই বিসর্জন সম্পন্ন হবে। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে সতর্ক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বিসর্জনের পর ঘাট পরিষ্কারের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে প্রস্তুত রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। এছাড়াও গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কলকাতার চারটি গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গার ঘাটে বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকবে। বিসর্জনের সময় ঘাটে ডিজে বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর দ্রুত ঘাট পরিষ্কারের জন্য পুরসভার তরফেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে বিসর্জনের আগে প্রতিমার কাঠামো স্পর্শ করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘাটে যাঁরা আসবেন, তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা এবং পরিচয় চিহ্নিত করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে নির্বিঘ্নে বিসর্জন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি, অন্যদিকে প্রতিমা স্পর্শের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ—দশমীর সকালে দুই বিষয়ই উঠে এসেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *