Breaking News

বিজয়ার লাড্ডুতে ছত্রাক, মেয়াদ উত্তীর্ণ মিষ্টি বিক্রির অভিযোগে বসিরহাটে দোকানে ভাঙচুর, উত্তেজনা!

নিজস্ব সংবাদদাতা:- দুর্গাপুজো শেষ হতেই লাড্ডু ঘিরে তুমুল উত্তেজনা বসিরহাটে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের নতুন বাজারে একটি বহুজাতিক সংস্থার ফ্র্যাঞ্চাইজি মিষ্টির দোকানে নষ্ট লাড্ডু বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, লাড্ডুর কয়েকটি প্যাকেটে ছত্রাকের অস্তিত্ব মেলে। এমনকী, কিছু প্যাকেটের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ওই লাড্ডু খেয়ে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজয়া দশমী উপলক্ষে লাড্ডু বিলির জন্য হাড়োয়া বিজেপির পক্ষ থেকে আট পেটি লাড্ডু কেনা হয়েছিল। হাড়োয়া এলাকায় সেই লাড্ডু বিতরণের সময় কয়েকটি মিষ্টিতে ছত্রাক দেখা যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কিছু লাড্ডুর প্যাকেটের মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। ওই লাড্ডু খাওয়ার পর এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়ায়।এরপরই বসিরহাটের নতুন বাজারে সংশ্লিষ্ট দোকানের মালিকের কাছে অভিযোগ জানাতে যান বিজেপি নেতা-কর্মীরা। কেন নষ্ট ও মেয়াদ উত্তীর্ণ লাড্ডু বিক্রি করা হয়েছে, তা নিয়ে দোকানমালিকের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয় বলে খবর। অভিযোগ, সেই বচসা চলাকালীন উত্তেজিত বিজেপি কর্মীরা দোকানের কাচ ভাঙচুর করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দোকানের মালিক। তাঁর দাবি, যাঁরা এ দিন অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন, তাঁরা তাঁর দোকান থেকে সরাসরি ওই মিষ্টি কেনেননি। কোনও ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে লাড্ডুগুলি কেনা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। দোকানমালিকের বক্তব্য, তাঁর দোকান থেকে ছত্রাকযুক্ত বা মেয়াদ উত্তীর্ণ মিষ্টি বিক্রি করা হয় না।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশকর্মী। উত্তেজনার জেরে শহিদ দীনেশ মজুমদার রোডের নতুন বাজার সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কিছুক্ষণের জন্য ইটিন্ডা রোড ও টাউন হল সংলগ্ন এলাকাতেও যানজট তৈরি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।বিজেপির স্থানীয় নেতাদের দাবি, হাড়োয়া এলাকায় বিতরণের জন্যই ওই লাড্ডুর প্যাকেটগুলি কেনা হয়েছিল। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে খাদ্য সুরক্ষা দফতরকেও খবর দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে লাড্ডুগুলি ঠিক কোথা থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল, সেগুলির মেয়াদ ও গুণমান সংক্রান্ত অভিযোগ কতটা সত্যি এবং ওই ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে মিষ্টি খাওয়ার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *