Breaking News

দিনে তিন বার সাফাই বাধ্যতামূলক, গাফিলতি ধরা পড়লে বাতিল সাফাই সংস্থার টেন্ডার! রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিকে কড়া বার্তা স্বাস্থ্য ভবনের

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পর্যাপ্ত সাফাইকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কেন রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজে অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে এ বার কঠোর অবস্থান নিল স্বাস্থ্য দফতর। পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ সামনে আসার পর শুক্রবার দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য ভবনে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠক থেকে হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার বিষয়ে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, সম্প্রতি পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ফোন করেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা জানতে পারেন, ওই হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ অনুপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, অনুমতি ছাড়াই পাঁচ জন নন-মেডিক্যাল সুপার ছুটিতে রয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।অথচ, ওই মেডিক্যাল কলেজে ৩৬৪ জন সাফাইকর্মী ও ওয়ার্ডবয় রয়েছেন। সাফাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার পরেও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের শো-কজ় করা হয়েছে। ছ’ঘণ্টার মধ্যে কর্মস্থলে হাজির হয়ে হাসপাতাল পরিষ্কার করানোর পাশাপাশি, সেই কাজের ছবি স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরুলিয়ার ঘটনার পর রাজ্যের অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। শুক্রবারের বৈঠকে বর্ধমান, কোচবিহার, মালদহ ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পর্যাপ্ত কর্মী ও সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কেন হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যাচ্ছে না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালগুলির পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বৈঠকে বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের শৌচাগার, ওয়ার্ড ও করিডর দিনে অন্তত তিন বার পরিষ্কার করতে হবে। শুধু নিয়মিত সাফাই নয়, কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের আচমকা পরিদর্শন করতে হবে। পরিদর্শনের ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত রিপোর্ট উপাধ্যক্ষদের কাছে জমা দিতে হবে। হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও বিশেষ ভাবে নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের উপর দেওয়া হয়েছে।
সাফাইয়ের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এজেন্সিগুলিকেও সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য দফতর। আচমকা পরিদর্শনে সাফাইকর্মীদের কাজে গাফিলতি ধরা পড়লে প্রথমে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে শো-কজ় করা হবে। তার পরেও সন্তোষজনক জবাব না মিললে এবং পরপর তিন বার শো-কজ়ের পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির টেন্ডার বাতিল করা হতে পারে। সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এ বার নজরদারি ও জবাবদিহি—দুই ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি বাড়ানোর পথে হাঁটল স্বাস্থ্য দফতর।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *