Breaking News

চোরবাগানকাণ্ডে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে শুভমের মৃত্যু, বাগমারির বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা মুখ্যমন্ত্রীর!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-পুজোর আনন্দের মাঝেই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়। মণ্ডপ দেখতে গিয়ে ভিড় ও বৃষ্টির জেরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় উৎসবের আবহে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিপর্যয়ের পর থেকেই মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগমারিতে মৃত তরুণী শুভম সোনকারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুনলেন তাঁদের অভাব-অভিযোগ, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস।
বাগমারির ছোট্ট একটি ফ্ল্যাটে থাকত সোনকার পরিবার। পরিবারের মেয়ে শুভম একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পাড়ায় পরোপকারী হিসেবেই পরিচিতি ছিল তাঁর। ভিড় বিশেষ পছন্দ না করলেও পুজোর প্রশংসা শুনে গত ১৭ অক্টোবর, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপ দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেই ঘটে যায় মর্মান্তিক পরিণতি। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় শুভমের। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর পরিজনেরা। বাড়িতে রয়েছেন শুভমের বাবা ও ভাইবোনেরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মানিকতলার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়।শুভমের ছবিতে মালা দিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তাঁর বাবা রামজি ও ভাই সুজনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিবারের তরফে জানানো হয়, সুজন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আর্জি জানান তাঁরা। পরিবারের সেই অনুরোধ শোনার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এঁরা নিজেদের সমস্যা নিয়ে দু-একটা কথা বলেছেন, সেসব প্রকাশ্যে বলা যাবে না। আমি আশ্বাস দিয়েছি, আমার এক্তিয়ারের মধ্যে যতটা যা সম্ভব, করে দেব।” তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মা ও বোন সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকতে প্রতিবেশীদেরও অনুরোধ করেছেন তিনি, যাতে তাঁরা শোক সামলে উঠতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “প্রাণের তো কোনও মূল্য হয় না। তবু ওঁদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ আর ডিএমের তরফে ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি, বিপর্যয়ের সময় মাইকে ঘোষণা করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *