দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- উৎসবের মরশুমে ফের দুর্যোগের আশঙ্কা! বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী কয়েক দিনে সেটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর আবহাওয়ার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। ২৪ অক্টোবর সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৫ অক্টোবর অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর সকালে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে নিম্নচাপটি। এরপর আরও শক্তি বাড়িয়ে সেটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া উপকূলের কাছে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা সম্পর্কে পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২৭ অক্টোবর থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও কলকাতার এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতাও রয়েছে। ২৮ অক্টোবর বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। সব জেলাতেই অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের এক-দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ৭০-১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ওই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। বজ্রবিদ্যুতের আশঙ্কাও রয়েছে।২৯ অক্টোবরও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২৮ অক্টোবর থেকে উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ২৯ অক্টোবর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে |
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে হাওয়ার গতিবেগ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে সমুদ্রে ঘণ্টায় ৩৫-৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ২৬ অক্টোবর সকালে তা ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ২৭ অক্টোবর থেকে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।
দুর্যোগের আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের মৎস্যজীবীদের ২৭ অক্টোবর থেকে সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে ২৬ অক্টোবর থেকে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের ২৬ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি পরবর্তী সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal