প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকাল ট্রেনের চালকের কেবিনে ঢুকে এক যাত্রীর হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। আচমকাই ট্রেনের হর্ন বেজে চলায় রেলকর্মীদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকরা। তখনই দেখা যায়, চালকের কেবিনে উঠে এক ব্যক্তি ক্রমাগত হর্ন বাজাচ্ছেন। পরে তাঁকে আটক করে রেল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ১১টা নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশনের ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছয় একটি লোকাল ট্রেন। নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার পর এক লোকো পাইলট দায়িত্ব ছেড়ে নেমে যান। এরপর অন্য এক লোকো পাইলটের ট্রেনটির দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। সেই সময়ই ট্রেনের সামনের দিকের চালকের কেবিনে ঢুকে পড়েন এক যাত্রী। অভিযোগ, কেবিনে ঢুকেই তিনি জোরে জোরে হর্ন বাজাতে শুরু করেন।হর্নের আওয়াজ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে আরপিএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রেল সূত্রে খবর, তখন ট্রেনটি খালি করে পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সেই কারণে যাত্রীরাও ট্রেনে উঠতে শুরু করেছিলেন। তবে ট্রেন চালানোর প্রয়োজনীয় চাবি লক করা থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রেনটি চালু করতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর থেকেই রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। লোকো পাইলট দায়িত্ব ছেড়ে নেমে যাওয়ার পর চালকের কেবিনের দরজা লক করা ছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এক যাত্রী কেবিনের ভিতরে ঢুকে পড়লেন, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।শিয়ালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে রেল পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেন বিষয়টি নজরে এল না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রেন চালানোর চাবি লক করা না থাকলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।ঘটনায় অভিযুক্ত যাত্রীকে গ্রেফতার করেছে আরপিএফ। তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে রেল পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনার পর আরও বড় প্রশ্ন উঠছে, লোকো পাইলট কেবিন ছেড়ে যাওয়ার পর সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? কেবিনের দরজা যথাযথভাবে বন্ধ ও সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে। সময়মতো বিষয়টি নজরে না এলে এবং ট্রেন চালু করার ব্যবস্থা খোলা থাকলে বড় বিপদ ঘটতে পারত। ফলে শিয়ালদহের এই ঘটনা রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক ফাঁকফোকর সামনে এনে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal