Breaking News

২০২৭-এই কি রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন? আর জি করের সম্মেলন থেকে ভোটের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ছাত্র সংসদ নির্বাচন। তৃণমূল সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্র ভোট কি এবার ফিরতে চলেছে? রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র ভোট হওয়া উচিত বলে জানিয়ে তিনি আগামী বছর নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।শুক্রবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র ডাক্তারি পড়ুয়াদের সর্বভারতীয় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভোট হওয়া উচিত। আমরা সকলেই ছাত্র রাজনীতির ফসল। কলেজের ভোটে ক্লাসের ফাঁকে বক্তৃতা করেই এখানে এসেছি।”এদিন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবিভিপি পর্যবেক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর দাবি, ওই পর্যবেক্ষক তাঁকে আগামী বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন করানোর কথা বলেছিলেন। সেই বক্তব্য উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উনি আমাকে বললেন, আগামী বছর করে নিন। সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ আর রাষ্ট্রবাদীদের আওয়াজ ‘বন্দে মাতরম’ শোনা যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর আগামী বছর রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা আনুষ্ঠানিক সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। করোনা অতিমারির পর নির্বাচন আয়োজনের সমস্যা নিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে বক্তব্য জানানো হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখার বিষয়টিও সেই সময় আলোচনায় এসেছিল। এখনও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের ঘর তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এদিনের সম্মেলনে ছাত্র ভোটের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘দিমাগি নকশাল’ প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে বিপুল আর্থিক সহায়তার কথাও বলেন তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *