Breaking News

‘আমরা তো হারিনি, রাজভবনে যাব না, আমি ইস্তফা দেব না’,সাংবাদিক সম্মেলনে সাফ জানিয়ে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা!

নিজস্ব সংবাদদাতা:-বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। এবার নতুন সরকার শপথ নেবে। গণতান্ত্রিক রীতি মেনে রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। যদিও কালীঘাটের বাড়িতে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হার স্বীকার করতেও রাজি নন তিনি। স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি।’ একই সঙ্গে নিজেকে ‘ফ্রি বার্ড’ বলে মুক্ত কন্ঠে ঘোষণা তাঁর।১৫ বছর আগে, ২০১১ সালেও পালাবদল দেখেছে বাংলা। ৩৪ বছরের বামশাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার রাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছিল মানুষ। সেবার ভোটগণনার বিকেলে ফল বুঝতে পেরেই রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। মনে করা হয়েছিল সেই ঘটনারই পুুনরাবৃত্তি ঘটবে ২০২৬-এ। সোমবার বিকেলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। মনে করা হচ্ছিল হয়তো আজ অর্থাৎ মঙ্গলে ইস্তফা দেবেন তিনি। এদিন কালীঘাটের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা সাফ জানালেন, ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সাংবাদিকের ইস্তফা সংক্রান্ত প্রশ্নে মমতা বললেন, “আমরা তো হারিনি। তাই লোকভবনে যাব না। চক্রান্ত করা হয়েছে। হারিনি, তাই ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন নেই। যদি শপথ নিতে হত, তাহলে যেতাম।” রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ – সর্বত্র বিজেপির তাণ্ডব চলছে। তাঁর দাবি, তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত কর্মীদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশাসন বর্তমানে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। ২০১১ সালের পরিবর্তনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় ক্ষমতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দেখায়নি বা সিপিএমের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেনি। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে, শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছে। এমনকি পেটে ও পিঠে লাথি পর্যন্ত মারা হয়েছে।” তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই হারই শেষ কথা নয়, তাঁরা আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক তৃণমূল নেতা-কর্মীকে জোরপূর্বক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ তথ্যানুসন্ধানী দল গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রের শাসক দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যখন তাঁরা ক্ষমতায় থাকবেন না, তখন তাঁদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *