Breaking News

‘বিজয়ার মিষ্টি খাওয়া যাবে না, জানতাম না’, নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে বিস্ফোরক কাজল শেখ, দ্বারস্থ স্পিকারের!

নিজস্ব সংবাদদাতা :-নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিধানসভার অধ্যক্ষের দ্বারস্থ হলেন হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দুই নিরাপত্তারক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে ঢুকেছিলেন তিনি। কিন্তু বৈঠক চলাকালীন জানতে পারেন, তাঁর সঙ্গে থাকা দুই নিরাপত্তারক্ষীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কাজল। একইসঙ্গে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কাজল শেখের দাবি, ২০২১ সালে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছয় জন নিরাপত্তারক্ষী ও পিএসও ছিলেন। ২০২৩ সালে জেলা পরিষদের সভাধিপতি হওয়ার পর তিনি ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান। ২০২৬ সালের শুরু থেকে তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে ওয়াই প্লাস করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর নিরাপত্তা কমানো হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর ফের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি। এবার সেই নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিধায়কের।
কেন হঠাৎ নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়া হল, তা নিয়ে বলতে গিয়ে বিজয়ার মিষ্টি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনেছেন কাজল। তাঁর কথায়, “বিজয়ার মিষ্টি খাওয়া যাবে না, সেটা জানতাম না। বিধানসভায় দেখা হবে না? সবার সঙ্গে সবারই দেখা হয়।”তিনি আরও বলেন, “আমি যদি বিজয়ার মিষ্টি খাওয়ার জন্য অপরাধ করি, তাহলে আবারও সেই অপরাধ করব। আমি চাইব আমার নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আমি কোনও ভাগের নেই।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল কাজল শেখের। সেই সময় তাঁকে বিজয়ার মিষ্টি খাওয়ান শোভনদেব। এই প্রসঙ্গে শোভনদেব জানিয়েছিলেন, কাজলের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁর হাত ধরে ঘরে নিয়ে গিয়ে মিষ্টি খাইয়েছেন। অন্যদের সঙ্গেও মিষ্টি ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা। সেই ঘটনার পরেই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কাজল। তবে মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছেন হাসনের বিধায়ক। পাশাপাশি বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের কাছেও প্রতিকার চেয়েছেন তিনি। তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন আখরুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, বিধায়কদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানানো হবে।
এখন দেখার, কাজল শেখের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর অভিযোগের পর রাজ্য সরকার বা বিধানসভার পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ করা হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *