দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্যে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নতুন পদ তৈরি থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী দিনে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েকটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগের বৈঠকে প্রায় ৪৫ হাজার পদ তৈরির সিদ্ধান্তের পর বুধবারের বৈঠকে আরও প্রায় ১২০০টি পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলিতে প্রায় ৬০ হাজার নতুন পদ তৈরির পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে দাবি রাজ্য সরকারের।
তবে নতুন চাকরির ঘোষণার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে SSC-র মাধ্যমে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হবেন, তাঁদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে। পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য রাজ্যের উদাহরণ সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী ধরনের বিধি বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমানে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এবং ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত বা পুরসভার মতো প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক পদে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে না বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ব্যাখ্যা, পুরনো নিয়োগের সময় এ ধরনের শর্ত ছিল না। তাই নতুন বিধিনিষেধ মূলত ভবিষ্যতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতিতেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিল্পনীতি ঘোষণা করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। রাজ্যে বড় শিল্প ও নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ-সুবিধা, ‘সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম’ এবং জমি সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তনের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষক নিয়োগের নিয়ম এবং শিল্পে বিনিয়োগ—এই তিন ক্ষেত্রেই একাধিক সিদ্ধান্ত সামনে এনেছে রাজ্য সরকার। তবে নতুন পদগুলিতে নিয়োগের সময়সীমা, নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত নিয়ম এবং শিক্ষকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে প্রস্তাবিত বিধিনিষেধের আইনি কাঠামো স্পষ্ট হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal