প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-নিয়ম অনুযায়ী, জানুয়ারির গোড়ায় রাজ্যের সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তবে তার আগেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন করানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দুই পুরসভায় ভোট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের উদ্যোগে ডাকা হয় সর্বদলীয় বৈঠক। সেখানে কলকাতা পুরসভার খসড়া ভোটার তালিকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, আগামী ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে পারে।
যদিও কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পুরো বিষয়টি রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বলে সূত্রের খবর। তবে আগামী ১০ নভেম্বর ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পুরভোটের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই বিজ্ঞপ্তি জারি করায় আইনি বাধা নেই। তবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি, আইন অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার অন্তত ১৪ দিন পর ভোটগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবেই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভোট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR-এর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া কয়েক লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের আবেদনগুলির নিষ্পত্তি এখনও হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা পুরভোটে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত নির্বাচন করানোর সম্ভাবনা ঘিরে সর্বদলীয় বৈঠকেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিপিএম, কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূল।
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্ত ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের অবসরকালীন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার আলিপুরের নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিংয়ে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে সিপিএমের সুব্রত দত্ত খসড়া ভোটার তালিকায় দাবি ও আপত্তি জানানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বৈঠকটিকে প্রহসন বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, বরো ও বুথের বিন্যাস এবং ওয়ার্ডগুলির সংরক্ষণ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না দিয়েই দ্রুত ভোট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুনানি ও আপিলের মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় SIR-এ বাদ পড়া ১ লক্ষ ১৭ হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন করা উচিত।
বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি অবশ্য জানান, বুথভিত্তিক খসড়া ভোটার তালিকা রাজনৈতিক দলগুলির হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বিরোধীরা আপত্তি জানালেও ওই তালিকা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সব মিলিয়ে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা বাড়ছে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি এবং SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরভোটের সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal