প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- এসআইআর প্রক্রিয়ায় মানুষের হয়রানি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে একাধিকবার সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় | এবার তিনি এই নিয়ে কলম ধরলেন, লিখলেন কবিতা ৷ সোমবার তাঁর স্বাক্ষর সম্বলিত এই দীর্ঘ কবিতা প্রকাশ্যে আসে ৷ সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কবিতার ছবিটি পোস্ট করে অভিষেক লেখেন, মানুষের জীবন ভেঙে দেওয়া এক ‘কুপ্রক্রিয়া’র বিরুদ্ধে নিজের অন্তর্দাহ ও জনতার যন্ত্রণা, ক্ষোভকে তিনি কবিতার ভাষায় তুলে ধরেছেন বলেই তাঁর দাবি।পোস্ট করা কবিতার শিরোনাম ‘আমি অস্বীকার করি’। কবিতার পরতে পরতে উঠে এসেছে রাষ্ট্রযন্ত্র, ক্ষমতা, ইতিহাস ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। কোথাও সংখ্যার হিসাবকে অস্বীকার করে মানুষের মুখের কথা বলেছে কবিতা, কোথাও আবার ‘ক্ষমা’ আর ‘ভুলে যাওয়ার’ সংস্কৃতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কবিতার ভাষায় বার বার ফিরে এসেছে ইতিহাসের সাক্ষ্য—কে দেখেছিল, কে চুপ করে ছিল, আর কে প্রতিবাদ করেনি।লাল-সাদা রঙে তৈরি কবিতার পোস্টারে কলমের ছবি, রক্তাভ ব্যাকগ্রাউন্ড এবং নীচে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর। সব মিলিয়ে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, এসআইআর পর্বে নাগরিকত্বের প্রমাণ বা বিভিন্ন তালিকার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে । কবিতার ছন্দে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ৷ অভিষেক লিখেছেন, রাষ্ট্র যখন মানুষের কাছে ‘নাম’ বা ‘কাগজ’ দেখতে চায়, তখন মানুষ আসলে নিজের ইতিহাস, মাটি আর ঘাম দিয়ে গড়া জন্মভূমিকে তুলে ধরে । কিন্তু রাষ্ট্র যখন সেই আবেগ বা মাটির সম্পর্ককে অস্বীকার করে কেবল নথিপত্রের জালে মানুষকে বন্দি করতে চায়, তখন সেই পরিস্থিতি এক ভয়ংকর রূপ নেয় ।তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে লিখেছেন যে, রাষ্ট্রের খাতায় প্রাণের বদলে কেবল পরিসংখ্যানই ঠাঁই পায় । শাসকের বুটের তলায় সাধারণ মানুষের বিবেক, সত্য এবং সম্মান পিষ্ট হওয়ার যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক অর্থ বহন করে ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal