দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-রাজস্থানের কোটায় নিটের কোচিং-এর জন্য গিয়েছিলেন কোচবিহারের অনরণ্য কর্মকার (১৮)৷ শনিবার রাতে সেখানে এক ক্যাফের ছাদ ভেঙে মৃত্যু হয়েছে তাঁর ৷ গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি তাঁর মা সুদীপ্তা কর্মকার ৷ ইতিমধ্যে, ঘটনার খবর পেয়ে কোটার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তাঁর বাবা ৷ শোকের ছায়া কোচবিহার শহরের বক্সিবাড়ি এলাকায় ৷ কোচবিহার শহরের বক্সিবাড়ি এলাকায় বাড়ি অনরণ্যদের ৷ তাঁর দিদি বিএসসি নার্সিং করে মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন ৷ কোচবিহারে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরেই অনরণ্য রাজস্থানের কোটায় চলে যায় ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ৷ সেখান থেকেই একাদশ ও দ্বাদশের পড়াশোনা করছিলেন গত দু’বছর ধরে ৷ তাঁর সঙ্গে মা সুদীপ্তা কর্মকার থাকতেন ৷ আর তাঁর বাবা মাঝেমধ্যে যাতায়াত করতেন ৷ জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধেবেলা স্থানীয় এক ক্যাফেতে মা সুদীপ্তার সঙ্গে খেতে যান অনরণ্য ৷ পাশেই এক বহুতল ভাঙার কাজ চলছিল ৷ অভিযোগ, সেই কাজের কারণেই পাশের ক্যাফেটেরিয়ার ছাদ ভেঙে পড়ে ৷ ক্যাফেতে উপস্থিত অনেকেই গুরতর জখম হন ৷ তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখানেই চিকিৎসক অনরণ্যকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷ বাবা অভিজিৎ কর্মকার চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রায়ই কোটায় গিয়ে থাকতেন। দিন কয়েক আগেই তিনি ফিরেছেন কোচবিহারের বাড়িতে। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ মাকে নিয়ে কোটার এক রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন অনরণ্য। তাঁরা যাওয়ামাত্রই রেস্তরাঁর ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মা-ছেলের পাশাপাশি গুরুতর জখম হয় ১৫ বছরের আরেক কিশোর। তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অনরণ্য ও ১৫ বছরের কিশোরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সুদীপ্তাদেবীর পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে। সম্ভবত তাঁর একটি পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ যেতে পারে।রাতেই দুর্ঘটনার খবর পৌছায় অনরণ্যদের কোচবিহারের বাড়িতে ৷ এরপর রবিবার সকালে মামাকে সঙ্গে নিয়ে কোটা রওনা দেন তাঁর বাবা অভিজিৎ কর্মকার ৷ কোচবিহার জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “মর্মান্তিক ঘটনা ৷ কী কারণে হল, সেই সব খোঁজ নেওয়া হচ্ছে ৷”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal