প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বাংলায় গেরুয়া ঝড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরপ্রদেশ থেকে সোজা কলকাতায় উড়ে এলেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব| বৃহস্পতিবার বিকেলেই তিনি পৌঁছে গেলেন খোদ কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে। সেখানে তৃণমূল নেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন |নির্বাচনে ভালো লড়াই করার জন্য অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে প্রথমে শুভেচ্ছা জানান অখিলেশ। তারপর মমতার উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনি হারেননি”। গণতন্ত্রের বাঁচানোর লড়াইয়ে তৃণমূল নেত্রীর পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন অখিলেশ।অখিলেশ আরও বলেন, “বাংলার নির্বাচনে বেইমানি হয়েছে। এইবারের নির্বাচনে মাল্টি লেয়ার মাফিয়াগিরি হয়েছে। বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, আন্ডারগ্রাউন্ডের লোকজন মিলে এই নির্বাচন করিয়েছে। নির্বাচনে লুট করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিরোধীকে হারানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের উঁচু পদের লোভ দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে।” বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অখিলেশে উত্তরপ্রদেশের ভোটেও ‘সন্ত্রাসের নানা উদাহরণ’ দেন। তিনি বলেন, ‘‘পুরো ভোট প্রক্রিয়া বদলে দিয়েছে।’’ অভিষেকের সুরেই কাউন্টিং সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোরও দাবি তোলেন বিজেপি বিরোধী সর্বভারতীয় জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম নেতা। সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘‘অভিষেক এবং দিদির নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখে।’’ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যার প্রসঙ্গও এসেছে অখিলেশে সাংবাদিক বৈঠকে। তিনি বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা উচিত, হত্যার ঘটনা কী ভাবে ঘটল।’’বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার অখিলেশের বক্তব্যে ‘দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ’ নিয়ে হতাশাও ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘‘দিদি নিরাশ হওয়ার মানুষ নন। তিনি লড়াইয়ের মানুষ। বিজেপি পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্ততান্ত্রিক। তাই মহিলা বলে দিদিকে নিশানা করা হয়েছে। ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিলে কী ভাবে গণতন্ত্র বেঁচে থাকতে পারে?’’
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal