প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- নজিরবিহীন ঘটনা কলকাতা পুরসভায়। অধিবেশন কক্ষের দরজা তালাবন্ধ থাকল। ভিতরে ঢুকতেই পারলেন না কাউন্সিলররা | তৃণমূল সাংসদ তথা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় কিছু সময় অপেক্ষা করেন। এরপর বাধ্য হয়েই তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরে সভা বসল। মেয়র ফিরহাদ হাকিমও এদিন কলকাতা পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “পুরসভার কালো দিন। রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করছি সংঘাত নয়, সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য একসঙ্গে কাজ করার।” শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী কাউন্সিলরেরা এসেছিলেন। কিন্তু অধিবেশন কক্ষে তাঁরা ঢুকতে পারেননি। অভিযোগ, ঘরে তালা দেওয়া ছিল। অধিবেশনের জন্য ঘরটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন মালা নিজে। কিন্তু তার পরেও তালা খোলা হয়নি। অভিযোগ, নতুন সেক্রেটারি জানিয়ে দেন, তিনি এখনও দায়িত্ব নেননি। তাই চাবি দিতে পারবেন না। এর পর মালা অধিবেশন কক্ষের বাইরে কাউন্সিলর্স ক্লাব রুমে সভা বসান। ওই ঘরে অধিবেশনের উপযুক্ত আসনবিন্যাস নেই। নেই মাইকের ব্যবস্থাও।চেয়ার-টেবিলগুলিকে কাউন্সিলরেরা নিজেরাই সরিয়ে ঘরটিকে অধিবেশনের উপযুক্ত করার চেষ্টা করেন। তারপর সভা শুরু হয়। মাইক ছাড়াই সেখানে নিজের বক্তব্য জানান ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ।অতীনের পর অধিবেশনে বলতে ওঠেন ফিরহাদ। তখন একটি মাইকের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। ফিরহাদ বলেন, ‘‘হাউস খোলা এবং বন্ধ করা চেয়ারপার্সনের কাজ। আজ যা হল, অত্যন্ত দুঃখের, অপমানের। এখানে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি গণতন্ত্রের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এই লড়াই আমরা চালিয়ে যাব। রাজ্য সরকারকে বলব, কাজ করতে হবে। বর্ষা এলে শহরে জল জমলে কে দায়িত্ব নেবে? কলকাতায় কোনও বিপর্যয় হলে দায়িত্ব কে নেবে? নির্বাচিত সদস্যদের না মানলে তো সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হবে। গণতন্ত্রের উপরে কেউ নেই।’’ ক্লাব রুমে অধিবেশন শুরুর আগে এ বিষয়ে তেমন কোনও মন্তব্য করতে মালা রাজি হননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি তালা খুলে দেওয়ার কথা বলে পাঠিয়েছিলাম। অধিবেশন করব। আমরা প্রত্যেকেই এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু এখনও সেই তালা খোলা হয়নি। তাই আমরা এখানে অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি কথা পরে জানাব।’’
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal