প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বিধাননগর দক্ষিণ থানায় টানা সাড়ে তিন ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষ করে আলিপুর আদালতে পৌঁছতেই নতুন বিপাকে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আদালত চত্বরে তাঁর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন একাংশ আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, এক আইনজীবীর চেম্বারের ভিতরে দীর্ঘক্ষণ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় তাঁকে। বাইরে তখন ডিম হাতে বিক্ষোভকারীদের অপেক্ষা।লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না অরূপ বিশ্বাসকে। তাঁর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন। সেখানে গোয়েন্দাদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পর থানা থেকে বেরিয়ে পড়েন। তবে সোজা বাড়ির পথে না গিয়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাঁকে।পথে দু’দফা সাংবাদিকদের সামনে এলেও নিজের গন্তব্য সম্পর্কে মুখ খোলেননি অরূপ। পরে আচমকাই তিনি আলিপুর আদালতের এক আইনজীবীর চেম্বারে ঢুকে পড়েন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালত চত্বরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যে ওই চেম্বারের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন আইনজীবীরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আদালতে আসা বহু সাধারণ মানুষও।
বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতেই ছিল ডিম। প্রথমে কয়েকজন আইনজীবী শান্তভাবে অরূপকে বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। স্লোগান তুলে তাঁরা দাবি করেন, কোনওভাবেই ‘অভিযুক্তকে’ আশ্রয় দেওয়া চলবে না। ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে আদালত চত্বর। একসময় যে ঘরে অরূপ ছিলেন, তার আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়। তবু বাইরে অপেক্ষায় থাকা বিক্ষোভকারীরা অনড় ছিলেন।
অন্যদিকে, চেম্বারের ভিতরে অবস্থান করলেও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। বাইরে বেরোলেই যে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে, তা স্পষ্ট ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা টানটান উত্তেজনার পর আদালতে পৌঁছয় পুলিশ। তারপর কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চেম্বার থেকে বের করে আনা হয় অরূপ বিশ্বাসকে। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় তাঁর উদ্দেশে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়। আদালত চত্বরে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal