দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবার দ্বিতীয়বার চাওয়াই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল এক খুদের জীবনে। অভিযোগ, অতিরিক্ত খাবার চাইতে যাওয়ার ‘অপরাধে’ বিদ্যালয়ের এক কর্মীর হাতে মার খেয়ে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হতে হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার নদিয়ার শান্তিপুরের কুতুবপুর জুনিয়র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে যায় স্কুল চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
পরিবারের অভিযোগ, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র লব মণ্ডল প্রতিদিনের মতোই এদিন স্কুলে যায়। দুপুরে মিড-ডে মিলের খাবার খাওয়ার পর সে আরও কিছু খাবার চাইলে বিদ্যালয়ের গেটম্যান সুমেরু বিশ্বাস ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ, কোনও কথা না শুনেই তিনি ছাত্রটিকে মারধর করেন। সেই আঘাতে লবের কপাল ফেটে যায় এবং রক্ত বের হতে শুরু করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে আসেন লবের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, একটি ছোট শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শুধুমাত্র খাবার চাওয়ার জন্য যদি কোনও ছাত্রকে মারধরের শিকার হতে হয়, তবে স্কুলে শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়? এই প্রশ্ন তুলেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন এলাকার বহু বাসিন্দা। অভিযুক্ত কর্মীর অবিলম্বে গ্রেফতারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকায় খবর দেওয়া হয় শান্তিপুর থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও সেখানে পৌঁছন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বোঝানোর চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক গোপাল সরকার জানিয়েছেন, ঘটনাটি অনভিপ্রেত এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী নিজেই তাঁর কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর আহত ছাত্রকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। প্রধানশিক্ষকের কথায়, নিরাপত্তারক্ষী নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেছেন।
তবে তাতে ক্ষোভ কমেনি স্থানীয়দের। তাঁদের বক্তব্য, ভুল স্বীকার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। স্কুলে পড়তে আসা শিশুদের উপর কোনও কর্মী হাত তুলতে পারেন না। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এমনই দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ছাত্রের পরিবার, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। মিড-ডে মিলকে কেন্দ্র করে এক খুদের রক্তাক্ত হওয়ার এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal