Breaking News

পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ধর্মতলায় তৃণমূলের মহামিছিল, রাজপথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

প্রসেনজিৎ ধর,কলকাতা :- পরপর হকার উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে ফের রাস্তায় নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ধর্মতলায় বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন তিনি। পরে ধর্মতলার রাজপথে মিছিলেও হাঁটতে দেখা যায় তাঁকে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রী, যার মধ্যে ছিলেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন-সহ অন্যরা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র হকারদের সমর্থনে প্রতিবাদ নয়, বরং দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থনেরও একপ্রকার পরীক্ষা। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের পথে নামতে দেখা গিয়েছে। সেই আবহে হকার ইস্যুকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে চাইছে তৃণমূল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের উদ্যোগেই এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার বিভিন্ন হকার সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ হকারদের দাবির প্রেক্ষিতেই বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আনা হয়। এরপর ধর্মতলায় প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বুধবার দুপুরে ধর্মতলায় লেনিন মূর্তির পাদদেশে জমায়েত ও সংক্ষিপ্ত সভার আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে লেনিন সরণি ধরে সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যার পর্যন্ত মিছিলের পরিকল্পনা ছিল। পরে সেখানে আরও একটি সভারও আয়োজন করা হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতিও নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, ফুটপাত ও রাস্তার ধারে ছোট ব্যবসা করে হাজার হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। তাই পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে বহু পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে। শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ।
এদিনের কর্মসূচিতে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন হকার সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দেন। ধর্মতলায় হাজার হাজার হকারের উপস্থিতি চোখে পড়ে। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির কর্মসূচি নয়, বরং মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, জীবিকার নিরাপত্তা এবং সম্মানজনক পুনর্বাসনের দাবিতে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক আন্দোলন।
ধর্মতলার এই সমাবেশ থেকে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি হকারদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে একদিকে যেমন হকারদের পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল, তেমনই রাজ্যের বর্তমান সরকারের নীতির বিরুদ্ধেও জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে দল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *