Breaking News

বিজিবিএসের নামে ফিকি-কে ৩২৪ কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে! বিধানসভায় মমতার সই করা ফাইল দেখিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’ (বিজিবিএস) ঘিরে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, শিল্প সম্মেলনের আয়োজনের নামে সরকারি কোষাগার থেকে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য সংগঠন ফিকি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নিয়মবহির্ভূত।
অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রসঙ্গের জবাব দিতে গিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট সংক্রান্ত এই আর্থিক লেনদেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, বিজিবিএস আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ফিকি-কে সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়েছিল।
বিধানসভায় সরাসরি বিরোধী বেঞ্চকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৩২৪.৭৩ কোটি টাকা ফিকি-কে দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনেই এই অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। প্রয়োজন হলে সেই নথিও দেখানো যাবে।” তাঁর দাবি, এই ৩২৪ কোটি টাকা কেবলমাত্র ‘হিমশৈলের চূড়া’, এর আড়ালে আরও বড় আর্থিক অনিয়ম লুকিয়ে থাকতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই বিধানসভার অন্দরে তুমুল শোরগোল শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনকে সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে এত বিপুল অর্থ প্রদান করা আইনসঙ্গত নয় এবং বিষয়টি গভীর তদন্তের দাবি রাখে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি ছিল বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট। তবে এই সম্মেলনের কার্যকারিতা ও ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছিল বিজেপি। তাদের অভিযোগ ছিল, সম্মেলনে বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তার খুব সামান্য অংশই রূপায়িত হয়েছে, অথচ জনগণের করের টাকা খরচ হয়েছে বিপুল পরিমাণে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুধু অর্থ অপচয়ের অভিযোগেই থেমে থাকেননি, বরং সরাসরি দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন অর্থ দফতরের সম্মতি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা রাজ্যের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিরোধী শিবির কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *