Breaking News

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিধানসভায় সাক্ষাৎ ঘিরে জোর জল্পনা!দলবদলের গুঞ্জনে মুখ খুলে স্পষ্ট বার্তা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ‘আমি তৃণমূলেই আছি’

নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :-তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনা আরও উসকে দেয় মঙ্গলবার বিধানসভায় তাঁর উপস্থিতি এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের খবর। অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে এগোচ্ছেন বর্ষীয়ান এই নেতা?কিন্তু সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত ইতি টেনেছেন জ্যোতিপ্রিয় নিজেই। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর দলবদলের কোনও সম্ভাবনাই নেই। জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “আমি তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলাম, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছি। দল ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। আজ বিধানসভায় গিয়ে বহু পুরনো সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অশোক দেব-সহ অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে।”বিধানসভায় যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, পেনশন সংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় কাজ এবং বকেয়া মেডিক্যাল বিল জমা দিতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। শারীরিক কারণে শীঘ্রই চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হবে বলেও জানান তিনি। তাই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজগুলো সেরে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁর এই সফর।তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দলের ভাঙন প্রসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বক্তব্য, এই পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। তাঁর বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে এবং সবাই আবার এক ছাতার তলায় ফিরে আসবেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের পরে দলে একটা ধাক্কা এসেছে। কেউ হয়তো আবেগে বা মাথাগরমে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ধাপে ধাপে সব ঠিক হয়ে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধই থাকবে।”
কোন তৃণমূলের ছাতার তলায় ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন, সেই প্রশ্নের জবাবেও স্পষ্ট বার্তা দেন জ্যোতিপ্রিয়। তিনি বলেন, “দিদির নেতৃত্বেই সবাইকে থাকতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও বিকল্প নেই। যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁরাও যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে ফিরে আসতে চান, তাঁদের স্বাগত জানানো উচিত।”অন্যদিকে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক সৌজন্য বলেই ব্যাখ্যা করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “বালুদা আমাদের পুরনো নেতা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি কখনও রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারেন না।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *