Breaking News

‘শাকিরই রামনবমী হিংসার মূল পরিকল্পনাকারী’! ইট-বোমা জোগাড়ের অভিযোগ তুলে হেফাজতের আবেদন এনআইএ-র

প্রসেনজিৎ ধর :- হুগলির রিষড়ার ২০২৩ সালের রামনবমী-হিংসা মামলায় গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ শাকির আলিকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বুধবার আদালতে এনআইএ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে অভিযুক্তকে দু’দিনের হেফাজতে প্রয়োজন। তবে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ হলেও জেলে গিয়ে জেরা করতে তাদের কোনও আপত্তি নেই বলেও আদালতকে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
মঙ্গলবার রিষড়ার গাঁধী সড়কের বাড়ি থেকে শাকির আলিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। তিনি প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী এবং রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রিষড়ায় যে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলার তদন্তেই এই গ্রেফতারি।
বুধবার আদালতে এনআইএ দাবি করে, শাকির আলি ওই ঘটনার ‘মূল চক্রান্তকারীদের’ অন্যতম। কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবীর বক্তব্য, শাকিরের এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শুনানির সময় বিচারক জানতে চান, ঘটনার তিন বছর পর কেন হেফাজতের প্রয়োজন পড়ল। জবাবে এনআইএ জানায়,এতদিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি তদন্তে তিনি সহযোগিতা করেননি বলেও দাবি করা হয়। এনআইএ-র আইনজীবী আরও বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছ থেকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা মিলছে, যা আগে পাওয়া যেত না।আদালতে তদন্তকারী আধিকারিক জানান, স্থানীয় পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা তথ্যপ্রমাণের বাইরে গিয়ে তাঁরা অতিরিক্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অশান্তির সময় একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর হলেও একটি সাদা রঙের গাড়িতে কেউ হামলা করেনি। তদন্তকারীদের দাবি, সেটি শাকির আলির ব্যবহৃত গাড়ি। এছাড়াও সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে অশান্তির নেতৃত্ব দিতেও দেখা গিয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে এনআইএ।
তদন্তকারী সংস্থা আরও জানায়, কয়েকজন অভিযুক্তের ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা বয়ানে দাবি করা হয়েছে, রামনবমীর আগে একটি কমিউনিটি হলে বৈঠক করে ইট ও বোমা মজুতের পরিকল্পনা হয়েছিল। এনআইএ-র দাবি, সেই বৈঠকে শাকির আলি উপস্থিত ছিলেন এবং এক ব্যক্তিকে বোমা জোগাড়ের দায়িত্বও দিয়েছিলেন।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাকির আলির আইনজীবী। তাঁর দাবি, তিন বছর পর হঠাৎ করে শাকিরকে ‘মূলচক্রী’ বলা হচ্ছে, অথচ এতদিন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি আদালতে বলেন, শাকির কাউকে মারধর করেননি, বরং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন। এখন আদালত এনআইএ-র হেফাজতের আবেদন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *