দেবরীনা মণ্ডল সাহা:- মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবার জঙ্গলমহল সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আদিবাসী সমাজের উন্নয়নকে সামনে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গলমহলকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখার অভিযোগও তোলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে জঙ্গলমহলের মানুষ নানা ধরনের অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার আদিবাসীদের মর্যাদা, অধিকার এবং সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই আদিবাসীরা সমাজের মূল স্রোতে সমান মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাক। সেই লক্ষ্যেই মন্ত্রিসভায় একাধিক আদিবাসী জনপ্রতিনিধিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” হুল দিবসের অনুষ্ঠানে সিধু ও কানুর নবনির্মিত মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আদিবাসী সমাজের কৃতি পড়ুয়া, শিল্পী, সাহিত্যিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সংবর্ধনাও জানান তিনি। জঙ্গলমহলের উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতির কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রত্যেকটি আদিবাসী গ্রাম ও পরিবারকে উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, সেচ, উদ্যানপালন, হিমঘর নির্মাণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও আদিবাসীদের বিশেষ ভাতা, আরও বেশি সংখ্যক পাকা বাড়ি এবং প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চলতি রাজ্য বাজেটে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নের জন্য ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল। সেই সমস্ত শংসাপত্রের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও শুভেন্দু দাবি করেন, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের জন্য গত তিন বছরে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। বর্তমান সরকার ওই দফতরের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই অর্থে জঙ্গলমহলের ৭২টি ব্লকে উন্নয়নমূলক কাজ হবে এবং জামশেদপুর ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলকে সড়কপথে যুক্ত করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal