প্রসেনজিৎ ধর :-সুদূর বারাণসীতে ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিলেন হুগলির উত্তরপাড়ার মেধাবী ছাত্র ঋত্বিক কুন্ডু। কিন্তু সেই স্বপ্নযাত্রারই মর্মান্তিক পরিণতি। উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (IMS-BHU)-এর হস্টেল থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মানসিক অবসাদ বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তবে তাতে কী লেখা রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।ঋত্বিক হুগলি জেলার উত্তরপাড়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজেন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছাত্র হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি সকলের সঙ্গে তাঁর ব্যবহারও ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী, মা গৃহবধূ। দুই ভাইবোনের মধ্যে ঋত্বিক ছিলেন ছোট। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে।জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ভালো র্যাঙ্ক করে প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন ঋত্বিক। পরে সুযোগ পান বারাণসীর IMS-BHU-তে। সেখানকার হস্টেলেই থাকতেন তিনি। সেখান থেকেই এদিন তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে বারাণসী পুলিশ।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাণসী থেকে ফোন করে তাঁদের ঋত্বিকের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়েই পরিবারের সদস্যরা বারাণসীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তবে কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ঋত্বিক, তা এখনও পরিবারের কাছে সম্পূর্ণ অজানা।
ঋত্বিকের বাল্যবন্ধু দেবজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ওর আগ্রহ ছিল। ছোটবেলায় আমরা একসঙ্গে মাঠে খেলতাম। পরে যোগাযোগ কমে গেলেও কয়েকদিন আগেই ওর মায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ঋত্বিককে নিয়েই কথা হচ্ছিল। এমন একটা খবর শুনতে হবে, কখনও ভাবিনি।”
ঋত্বিকের অকালমৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে উত্তরপাড়ার রাজেন্দ্র অ্যাভিনিউ জুড়ে। প্রতিবেশী, পরিচিতজন থেকে শুরু করে তাঁর স্কুলের শিক্ষকরাও স্তব্ধ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং উদ্ধার হওয়া নোটের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে এলে এই রহস্যমৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলেই মনে করছে তদন্তকারী পুলিশ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal