Breaking News

তারাতলা গুদাম বিপর্যয়ে ১৬ মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন,তদন্তের অগ্রগতি ও ক্ষতিপূরণের রিপোর্ট তলব!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে কমিশন কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, নিহত ও আহতদের কী ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের তরফে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।
গত ২৪ জুন দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ও হিমঘরের কাঠামো। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৬ জন শ্রমিক। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে শুরু থেকেই ধ্বংসস্তূপে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা নষ্ট না হয়। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য নমুনাই দুর্ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এদিকে ঘটনার তদন্তে ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে কলকাতা পুরসভা, দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, পূর্ত দপ্তর-সহ একাধিক সংস্থার প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ভেঙে পড়া ভবনটির নকশা ও নির্মাণগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞদেরও তদন্তে যুক্ত করেছে কলকাতা পুলিশ। কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাঁদের বক্তব্য, ধ্বংসস্তূপ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে, পাশাপাশি মাটির গুণগত মানও পরীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *