দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- বিধায়কদের সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ জানিয়েছে, মূল মামলাটি বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে তিনি সার্কিট বেঞ্চে থাকায় মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অভিষেকের রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার বিষয়ে তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে যে চিঠি জমা পড়েছিল, সেই নথিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। ওই চিঠিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও ছিল। তদন্তের সূত্রে ইতিমধ্যেই কালীঘাটে দলীয় কার্যালয় এবং অভিষেকের বাসভবনেও গিয়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা।তদন্তের অংশ হিসেবে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি হাজির না হয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় চান। এরপর সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালত তাঁর আবেদনে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ প্রদান করেছিল, যা এবার ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হল।প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে এই বিতর্কে নতুন মোড় আসে। তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি, ৬ মে কালীঘাটের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কোনও প্রস্তাবই গৃহীত হয়নি। অন্য একটি উদ্দেশ্যে নেওয়া স্বাক্ষর পরে ওই বৈঠকের নথিতে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। অভিযোগ পাওয়ার পরই স্পিকারের দপ্তর থেকে নথি সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে সিআইডি।
এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই হাইকোর্টের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তি মিলল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এখন বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর থাকবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal