Breaking News

বিধায়ক ওরিয়েন্টেশন শিবিরে অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আক্রমণ শুভেন্দুর, ‘সব দলকে সঙ্গে নিয়েই চলছে সরকার’!শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওম বিড়লা

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- লোকসভা সচিবালয়ের ‘প্রাইড’ (গণতন্ত্র বিষয়ক সংসদীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য আয়োজিত হল বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। সংসদীয় রীতি, বিধানসভার কার্যপ্রণালী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নবীন বিধায়কদের ধারণা আরও সমৃদ্ধ করতেই এই দু’দিনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।
প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংসদীয় শিষ্টাচার, দায়িত্ববোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মেনে চলার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির শুধু নির্বাচনে জয়লাভ করাই যথেষ্ট নয়, বিধানসভার কার্যপ্রণালি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এই ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতের আইনপ্রণেতাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ভাষণের এক পর্যায়ে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার যে সাংবিধানিক পরিবেশ আজ দেশে রয়েছে, তার পেছনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বিগত বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের আমলের প্রশাসনিক সংস্কৃতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজ্যে এমন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হতো না এবং প্রশাসনের কাজেও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল স্পষ্ট।বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়নি। এমনকি বিধানসভায় একাধিকবার তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে এসে দলমত নির্বিশেষে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, নবীন বিধায়কদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। তিনি জানান, বর্তমান বিধানসভায় ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সি মোট ১৯৪ জন বিধায়ক রয়েছেন, যার মধ্যে ১৮১ জনই প্রথমবারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক নতুন মুখ গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বলেই মন্তব্য করেন তিনি।ওম বিড়লা নবনির্বাচিত বিধায়কদের পরামর্শ দেন, বিধানসভার অতীতের কার্যবিবরণী, বিতর্ক এবং বিশিষ্ট আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য নিয়মিত অধ্যয়ন করতে। তাঁর কথায়, সংসদীয় গণতন্ত্রে যুক্তি, তথ্য ও শালীনতার সঙ্গে নিজের বক্তব্য তুলে ধরাই একজন সফল জনপ্রতিনিধির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *