প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার কালীঘাট তৃণমূলের ডাকা প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে দক্ষিণ কলকাতায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হওয়া মিছিল হাজরা মোড়ের দিকে এগোতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘চোর চোর’ স্লোগান, ‘মাছ চোর’ গান এবং বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে বচসা ও সংঘর্ষের জেরে গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের হামলায় দলের বহু কর্মী আহত হন এবং কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।এরপর আহত ও অসুস্থ কর্মীদের একাংশ কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। অভিযোগ, সেখানেও ভিড়ের চাপে একাধিক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর সময় বাড়ির সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেই মাইক হাতে রাস্তায় নেমে আসেন তৃণমূল নেত্রী। বারবার ভিড় সরিয়ে আহতদের জন্য রাস্তা ফাঁকা করার আবেদন জানাতে দেখা যায় তাঁকে।কিন্তু বিশৃঙ্খলা বাড়তেই দৃশ্যত মেজাজ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিড় সামলানোর সময় কমলা রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির গালে সপাটে চড় মারতে দেখা যায় তাঁকে। সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরই এক কর্মী। যদিও ঠিক কী কারণে তিনি ওই কর্মীকে চড় মারেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আহত কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ভিড় সরাতে গিয়েই উত্তেজিত হয়ে এমন প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি।
ঘটনার পর বিজেপি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে গেছেন মমতা। তাঁর আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি এখনও মেনে নিতে পারছেন না যে বাংলার মানুষ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।”অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে দাবি করেন, হাইকোর্টের অনুমতি নিয়েই ছাত্র-যুবরা মিছিল করেছে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সমর্থকেরা তাঁর বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করে চিৎকার-চেঁচামেচি করেছে এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের প্রতিবাদী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal