দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- প্রবল বর্ষণ ও হড়পা বানে বালাসন নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভেসে গিয়েছিল দার্জিলিং জেলার মিরিকের দুধিয়া বেইলি ব্রিজের একাংশ। মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল মিরিক-শিলিগুড়ি সড়ক যোগাযোগ। অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুও প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই বিপর্যয়ের মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই ফের স্বাভাবিক হল যোগাযোগ ব্যবস্থা। বুধবার নবান্ন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দুধিয়ার নবনির্মিত বেইলি ব্রিজের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে পাহাড়বাসীর যাতায়াত এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহণ স্বাভাবিক রাখতে ভারতীয় সেনা ও রাজ্যের পূর্ত দফতরের যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই অস্থায়ী বেইলি ব্রিজটি তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র সেনা, পূর্ত দফতর এবং প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। তিনি ভারতীয় সেনার জওয়ানদের স্যালুট জানিয়ে বলেন, তাঁদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই পাহাড়ের মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ত দফতর ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। উল্লেখ্য, মাত্র ২০ দিন আগেই প্রবল বৃষ্টি, ধস এবং বালাসন নদীর তীব্র স্রোতে আগের বেইলি ব্রিজটি ভেসে যায়। গত বছরের অক্টোবরের দুর্যোগের পর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ওই অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলেও এবারের প্রবল বর্ষণের ধাক্কা সামলাতে পারেনি সেটি। ফলে মিরিকের সঙ্গে শিলিগুড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চরম সমস্যায় পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও নতুন বেইলি ব্রিজ আপাতত অস্থায়ী সমাধান, তবে স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দুধিয়ায় একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ হলে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সেই স্থায়ী সেতুর উদ্বোধন করবেন বলেও জানান।এদিন পাহাড়ে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্ষাকালে সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে পার্বত্য এলাকায় অত্যাধুনিক সরঞ্জাম-সহ ৫০ সদস্যের একটি বিশেষ সিভিল ডিফেন্স দল স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজনে তারা পুলিশ, সেনা ও দমকলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেবে।
রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন বেইলি ব্রিজ চালু হওয়ায় পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ফের স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা এবং পণ্য পরিবহণেও স্বস্তি ফিরবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal