নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :- চাকরির নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আদালতের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার সবং থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ থানায় পৌঁছন তিনি। এরপর তদন্তকারী আধিকারিকরা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান তিনি।সবং থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক মহিলাকে সেচ দফতরের অধীন চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারী বিকাশ কুমার টুংয়ের দাবি, তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে তৎকালীন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় এবং তৃণমূল নেতা শেখ আবু কালাম বক্স ও ভোলানাথ দে-র মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ মার্চ তিনি ‘CISB Services Private Limited’-এর অধীনে স্টুয়ার্ড পদে তেমাথানির সেচ বাংলোয় কাজে যোগ দেন।
পরিবারের অভিযোগ, নিয়মিত কাজ করলেও মাত্র দু’মাসের মাথায় তাঁকে জানানো হয় যে চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি চাকরি বাতিলের নির্দেশের কপিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয় বলে দাবি। এরপরই মানস ভুঁইয়া-সহ দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও প্রথম দু’বার থানায় হাজির হননি প্রাক্তন মন্ত্রী। পরে তিনি সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়ার পরই বৃহস্পতিবার থানায় হাজিরা দেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁর বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। ঘাটাল বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি বলেন, “পাপ বাপকে ছাড়ে না। দুর্নীতি করে থাকলে তার শাস্তি হবেই। আইন নিজের পথে চলবে।”যদিও শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে আদালতের নির্দেশ মেনে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। এখন তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের |
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal