দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- নবান্ন যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার আচমকাই সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বনির্ধারিত কোনও কর্মসূচি ছাড়াই তাঁর এই আকস্মিক সফরে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে যান এবং সেখান থেকে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালচক্র সম্পূর্ণ নির্মূল করা এবং সাধারণ মানুষকে স্বচ্ছ ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, হাসপাতালের কর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন, প্রয়োজন শুধু সঠিক কর্মপরিবেশ ও প্রশাসনিক সহায়তা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন তিনি।কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে কীভাবে দালালচক্রের উপর নজরদারি চলবে, তাও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি যদি টানা দু’দিন হাসপাতাল চত্বরে অকারণে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তা নজরে আসবে। কারণ সাধারণ রোগী একই কারণে বারবার হাসপাতালে আসেন না। এই ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রেখেই দালালচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ঘুরে তিনি পরিচ্ছন্নতা ও পরিষেবার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখেছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার।স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণ নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর উদ্যোগে তৈরি হওয়া ২,০০০ শয্যার হাসপাতালের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। সেখানে ১,০০০টি শয্যা আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি এসএসকেএম হাসপাতালেদুর্গাপুজোর আগেই আরও ২০০ থেকে ২৫০টি শয্যা বাড়ানো হবে এবং আইসিইউ বেডের সংখ্যা ১১২ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া রাজ্যের ট্রমা কেয়ার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রতিক তারাতলা দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বড় দুর্ঘটনার সময় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক আহতকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। সেই লক্ষ্যে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার তৈরির জন্য স্বাস্থ্য দফতরকে প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal