নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :- তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক তরজা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিক্ষুব্ধ বনাম কালীঘাট শিবিরের সংঘাতে এ বার ফের সামনে চলে এল বহুচর্চিত সারদা মামলার সেই ৯১ পাতার চিঠি। বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্রেস কর্নারে সাংবাদিক বৈঠক করে নাম না করেই তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে নিশানা করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কটাক্ষ করে তাঁকে ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাল্টা জবাব দিতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি কুণাল ঘোষও।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, সারদা-কাণ্ডে জেলবন্দি থাকার সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিবিআইয়ের তৎকালীন ডিরেক্টরের কাছে কুণাল ঘোষ যে ৯১ পাতার চিঠি পাঠিয়েছিলেন, সেই চিঠিই তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। নাম না করে তিনি বলেন, “সেই চিঠিতে সবচেয়ে বেশি জায়গা পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন সময় পেলে নেত্রী সেই চিঠিটা আবার পড়তে পারেন। প্রয়োজন হলে আমরা সেই চিঠি তাঁর কাছেও পাঠিয়ে দেব, সংবাদমাধ্যমের হাতেও তুলে দেব।”ঋতব্রতের দাবি, ওই চিঠিতে তৎকালীন তৃণমূল নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য ছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি কুণাল ঘোষের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।তবে পাল্টা আক্রমণে আরও একধাপ এগিয়ে যান কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “শয়নে, স্বপনে, জাগরণে আমার নামই মনে রাখছে ঋতব্রত, এতে আমি খুশি। ওটা আমার বিখ্যাত চিঠি, কঠিন সময়ের লেখা। সেই সময়ে দলেরই কয়েকজন আমার কাঁধে বন্দুক রেখে খেলেছিল। আজ যদি সেই চিঠিকেই সত্যি বলে মানো, তা হলে স্বীকার করতে হবে— কুণাল ঘোষই প্রথম হুইসল ব্লোয়ার।”
কুণালের দাবি, সেই চিঠি লেখা হয়েছিল এক বিশেষ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে। তাই তার আংশিক ব্যাখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।উল্লেখ্য, ঠিক একদিন আগেই বিক্ষুব্ধ শিবিরকে উদ্দেশ্য করে বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “বেইমানদের কথায় বেইমানি করবেন না। এখনও সময় আছে, ঘরে ফিরে আসুন। কর্মীদের মুখের দিকে তাকান।” সেই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কুণালের ৯১ পাতার চিঠিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal