Breaking News

‘আসল’ তৃণমূল কোনটি, সেটাই এখনও চূড়ান্ত নয়! তার আগেই ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা কেন? স্পিকারকে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে জোরদার আইনি লড়াই অব্যাহত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে স্পিকারের ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা এবং একাধিক সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠে আসে।শুনানির শুরুতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে জানান, আগামী ২৮ তারিখ মামলার হলফনামা জমা দেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। এসময় বিচারপতি শম্পা সরকার মন্তব্য করেন, “হলফনামা জমা দেওয়া আপনাদের সিদ্ধান্ত। এখন বিধানসভার অধিবেশনও চলছে না, ফলে নতুন করে কোনও রিটার্নেবল ডেটের প্রয়োজন নেই।” একইসঙ্গে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন, বিরোধী দলনেতা সাধারণত বিরোধী শিবির থেকেই নির্বাচিত হন এবং প্রাথমিকভাবে স্পিকারের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী জয়দীপ কর আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের আবেদন জানান। তবে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “আমি কীভাবে এমন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেব, যা বেআইনি বলে মনে হতে পারে?”
এর জবাবে জয়দীপ কর যুক্তি দেন, এই মামলায় সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, আগে প্রমাণ করতে হবে সংশ্লিষ্টরা একই রাজনৈতিক দলের সদস্য কি না। সুপ্রিম কোর্টের একনাথ শিন্ডে মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণের বিষয়টি এখনও নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। পাশাপাশি কোনও দলত্যাগ বিরোধী আবেদনও বিচারাধীন নেই। তাই এই মুহূর্তে দশম তফসিল প্রয়োগের প্রশ্ন ওঠে না। বেঞ্চও এই যুক্তিকে “সঠিক” বলে মন্তব্য করে।শুনানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ আসে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে। বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রকৃত বা বৈধ গোষ্ঠী নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। স্পিকার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করতে পারেন ঠিকই, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই কীভাবে একটি গোষ্ঠীকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধরে নিয়ে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হল, তা স্পষ্ট নয় বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আগামী বুধবার বেলা ৩টেয় মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *