Breaking News

মমতার মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্যের বিদায়, ২১ জুলাইয়ের আগে তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা মণীশ গুপ্তর, প্রশংসায় ভরালেন শুভেন্দুকে!

নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে। একের পর এক নেতা, বিধায়ক, সাংসদ ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ দল ছাড়ায় চাপে কালীঘাট শিবির। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির ঠিক আগে সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নাম। তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক মণীশ গুপ্ত।যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি তিনি, সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলে তাঁর আর কোনও সক্রিয় ভূমিকা নেই বলেই তিনি মনে করছেন। সেই কারণেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি রাজনীতি থেকেও অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।মণীশ গুপ্ত বলেন, “গত পাঁচ বছর আমাকে কার্যত বসিয়েই রাখা হয়েছে। দল আমাকে কোনও দায়িত্ব দেয়নি। আক্ষেপ বলব না, তবে এই অভিজ্ঞতাই অনেক কিছু বুঝিয়ে দিয়েছে। তার উপর আমার বয়সও হয়েছে। তাই তৃণমূল ছাড়ছি, রাজনীতিও ছেড়ে দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বয়স এখন ৮৫ বছর। আর সক্রিয় রাজনীতি করতে চাই না। আমি কোনও রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিচ্ছি না, রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত। সেই দিনের গুলিচালনার ঘটনাকে ঘিরে তাঁর নাম নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলেছিল। পরে ২০১১ সালে পালাবদলের পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মন্ত্রী ও বিধায়ক করেন। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল।এবার সেই মণীশ গুপ্তই ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগে তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করলেন। পাশাপাশি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসাও করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আশা করি, তিনি বাংলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।”তবে ভবিষ্যতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, সেই প্রশ্নে কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি মণীশ গুপ্ত। তাঁর দাবি, আপাতত সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *