নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :- ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের সুর ক্রমশ জোরালো হয়েছে। একের পর এক বিধায়ক ও নেতা কালীঘাট শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। সর্বশেষ সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র। বিদ্রোহী শিবিরের অধিকাংশ নেতারই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে ছেলের মতোই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার সাফ বক্তব্য, “অভিষেককে দোষ দেওয়াটা আসলে দল ছাড়ার বাহানা মাত্র।” নাম না করে মদন মিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আজ একজন চলে গেল। আমার কোনও দুঃখ নেই। কালই আমাকে মেসেজ করেছিল, গোটা পরিবারকে ইডি সমন পাঠিয়েছে। এটাই আসল কারণ।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ দেখিয়েই অনেককে দল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিদ্রোহী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মমতা তাঁদের “বেইমান” বলেও কটাক্ষ করেন। একইসঙ্গে কর্মীদের উদ্দেশে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, মানুষ তৃণমূলের প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছেন, ব্যক্তিকে দেখে নয়। তাঁর কথায়, “১৯৯৭ সালে আমি একা ছিলাম, তখনও লড়াই করেছি। আজ আমাদের সাংসদ, বিধায়ক রয়েছে। সেই সময় যদি লড়তে পারি, তবে ২০২৬ সালেও শূন্য থেকে শুরু করার ক্ষমতা আমার আছে।”অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগও সরাসরি উড়িয়ে দেন মমতা। তিনি বলেন, “অভিষেক বাহানা। ও ভুল করলে তার মাশুল দিয়েছে, সেই অধ্যায় শেষ। এখন ও লড়াই করছে, আগামী ৫০ বছরও লড়বে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যাঁরা দল ছাড়ছেন, তাঁদের অনেকের পরিবারকেই ইডি-সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে চাপ দেওয়া হচ্ছে।এদিন ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়েও বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মেনেই বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে কালীঘাট শিবিরের সমাবেশ হবে। ২০ জুলাই তিনি নিজে সভাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান। পাশাপাশি পুলিশের কাছে আবেদন রেখে তাঁর মন্তব্য, “কেউ যেন অশান্তি তৈরি করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মাইক না পেলেও খালি গলায় সভা করব। একবার যখন বলেছি, সভা হবেই।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal