Breaking News

কালীঘাটে বড় ভাঙন! মমতার সব পদ ছেড়ে ঋতব্রতর শিবিরে মদন মিত্র, বললেন— ‘সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়াই বেছে নিলাম’

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নের অন্যতম মুখ মদন মিত্র এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে বসেই তিনি ঘোষণা করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। তবে দলবদলের পরও মমতার প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে বলেই স্পষ্ট করেছেন কামারহাটির বিধায়ক।দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মদন মিত্র বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম।” তাঁর কথায়, “ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল, এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” একইসঙ্গে তিনি জানান, দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।শিবির পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মদন মিত্র সরাসরি আইপ্যাক এবং পরোক্ষভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, “অভিষেক আর যাই হোক তৃণমূলের মুখ নয়। আর আইপ্যাক খায় না মাথায় দেয়, সেটাও বোঝা যায়নি।” পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “যে দল ২১৩ আসন পেয়েছিল, একটা লোকের জন্য সেটাই শেষ হয়ে গেল।” যদিও কার উদ্দেশে এই মন্তব্য, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
বুধবার দুপুরে ভবানীপুরের বাড়ি থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছন মদন মিত্র। সেখানে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা ও আখরুজ্জমানদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন। ঋতব্রতের পাশেই বসে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন তিনি।
দল ছাড়ার পর মদনের আরও মন্তব্য, “দল চালায় সেনাপতি। সেনাপতি যদি দলকে ঠিকমতো চালাতে না পারে, তাহলে সমস্যা হবেই। আজ গোটা দল ভয়ে কাঁপছে। আমি দলের ভিতরে থেকে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চাইছি, কিন্তু আমার কথা শোনা হয়নি।”অন্যদিকে, মদন মিত্রকে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুরু থেকেই আমরা বলেছি, এটা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি কালেক্টিভের লড়াই। মদন মিত্রের মতো অভিজ্ঞ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এই লড়াই আরও শক্তিশালী হল।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *