প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বিধানসভার রাজনৈতিক আবহে শুক্রবার দেখা গেল এক নাটকীয় দৃশ্য। দলবদলের পর প্রথমবার কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে হাজির হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিয়েছেন তিনি। অথচ শুক্রবার নিট-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থনে বিধানসভা চত্বরে কালীঘাট তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচিতে আচমকাই উপস্থিত হন মদন। আর তাতেই শুরু হয় জোর রাজনৈতিক জল্পনা।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি ধর্নামঞ্চে পৌঁছে যান মদন। গেরুয়া পাঞ্জাবি, চোখে সানগ্লাস পরে হাসিমুখে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। আচমকা এই উপস্থিতিতে উপস্থিত বিধায়কদের একাংশ যেমন বিস্মিত হন, তেমনই শুরু হয় হালকা বাক্যবিনিময়ও।
মদনকে দেখে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “মদনদা শারীরিকভাবে ওদিকে গিয়েছেন, কিন্তু মন এখনও এদিকেই পড়ে রয়েছে। আমাদের ভিতরের একজন লোক ওদের মধ্যে রইল।” কুণালের মন্তব্য শুনে হাসিমুখেই জবাব দেন মদন। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “আমি চাই শোভনদা আগামী দশ বছর বিরোধী আসনে বসুন।” মদনের কথা শুনে হেসে ফেলেন শোভনদেবও। জবাবে বলেন, “দশ বছর বিরোধী আসনে বসব! আবার আসিব ফিরে।”পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন স্পষ্ট করেন, সৌজন্যবোধ থেকেই তিনি কালীঘাট তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে গিয়েছিলেন, এর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কোনও সম্পর্ক নেই। একইসঙ্গে কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমার মনে হচ্ছে, ওর মন হারানোর সময় খুব তাড়াতাড়ি আসছে।”পরিবারের সদস্যদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলব নিয়েও মুখ খোলেন মদন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও ছেলেকে দেশের তদন্তকারী সংস্থা ডেকেছে। তারা অবশ্যই যাবে। এর আগেও ডেকেছে। সত্যিই যদি আমি অন্যায় করে থাকি, তার বিচার হওয়াই উচিত।”দলবদলের কয়েক দিনের মধ্যেই কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে মদনের এই উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal