প্রসেনজিৎ ধর:- মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে শুক্রবার সকালে ঘটে গেল মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা। একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়। সেই সুযোগে স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে একটি পুলকার এবং এক সাইকেল আরোহী রেললাইন পার হতে শুরু করেন। ঠিক সেই সময় উল্টো দিক থেকে দ্রুতগতিতে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। মুহূর্তের মধ্যে পুলকার ও সাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা মারে ট্রেনটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন। পরে হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ। ঘটনার পর থেকেই রেলগেট খোলার সময় ও গেটম্যানের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে রেল ও রাজ্য পুলিশ।দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাত বছরের ফারহানা বেগম, আট বছরের জাসিকা শবনম এবং ৫০ বছরের সাইকেল আরোহী জামশেদ শেখের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পাঁচ বছরের ইসানুর রহমান ও সাত বছরের তামান্না পারভিনকে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তারাও মারা যায়। ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল চার শিশু-সহ মোট পাঁচজন।এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্কুলগাড়ির চালক সাহেব শেখ এবং পড়ুয়া আনিশা খাতুন। তাঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্বেশ্বর মণ্ডল ও শামিমা খাতুন-সহ আরও কয়েকজন কর্ণসুবর্ণ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিক, প্রশাসনের কর্তারা এবং পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠতেই রেলগেটের দায়িত্বে থাকা গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কীভাবে একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর গেট খুলে দেওয়া হল, যখন অন্য লাইনে আরেকটি ট্রেন আসছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে রেলও আলাদা তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, মুর্শিদাবাদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক্স হ্যান্ডেলে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি লেখেন, “কোনও প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্বও রাজ্য সরকারই বহন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রশাসনকে আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের খোঁজ নিয়েছেন। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা সকাল থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। চিকিৎসাধীনদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য দফতরকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার সকালের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর শোকস্তব্ধ গোটা মুর্শিদাবাদ। কীভাবে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল এবং এর জন্য কার গাফিলতি দায়ী, তা জানতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে রেল ও রাজ্য পুলিশ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal