দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- বিধানসভা নির্বাচনের পর কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ছবি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। একের পর এক নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক এবং সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ দল ছেড়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। শুক্রবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও দুই পরিচিত মুখ—বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়।শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বজিৎ দাস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানও। বৈঠকের পর কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়, কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন শিবিরেই যোগ দিয়েছেন বিশ্বজিৎ। কিছুক্ষণের মধ্যেই একই পথে হাঁটেন তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। ফলে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে ঋতব্রত শিবিরে সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিশ্বজিৎ দাসের রাজনৈতিক জীবনে দলবদল অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন। পরে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও সামলান। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হলেও বিজেপির অশোক কীর্তনিয়ার কাছে পরাজিত হন বিশ্বজিৎ। ভোটের পর থেকেই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই নীরব দেখা যাচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে শুক্রবার আচমকা বিধানসভায় তাঁর উপস্থিতি এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, “ঋতব্রতবাবু একজন সুবক্তা। আমি ওঁর বক্তব্য শুনি, ভালো লাগে। তাই আজ দেখা করতে এসেছিলাম।”বিশ্বজিৎ ও তাপসের যোগদানের ফলে কালীঘাট তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগদানের ধারা অব্যাহত থাকায় বিরোধী শিবিরের সংগঠন যে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে, সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট হল।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal